বাসস
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম
ধারাবাহিক অভিযানে চোরচক্রের চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ এবং ১৮টি ইজিবাইক ও বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ফরিদপুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোরচক্রের জাল উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযানে চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে,
চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক কেটে যন্ত্রাংশ আলাদা করে নম্বর পরিবর্তন করে নতুনভাবে জোড়া
লাগিয়ে বিক্রি করত।
ফরিদপুর পুলিশ
সুপারের কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম
এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন,
ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা একটি ইজিবাইক চুরির মামলার সূত্র ধরেই চক্রটির সন্ধান
পাওয়া যায়।
মামলার বাদী
জাহিদুল ইসলাম নামের এক ইজিবাইক চালক গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের কোর্টপাড় জামে মসজিদের
সামনে ইজিবাইক তালাবদ্ধ করে আদালতে যান। ফিরে এসে গাড়িটি না পেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি থানায়
মামলা করেন।
এরপর পেনাল
কোডের ৩৭৯ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে আলাল ফকির নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
তিনি আদালতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে চক্রের অন্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। পরে ফরিদপুর,
শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একে একে ১২ জনকে গ্রেপ্তার
করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত
অন্যান্যরা হলেন-মোজাম্মেল মণ্ডল
(৪৬), মো. ইলিয়াস হোসেন
(৫০), মো. আবুল হোসেন
মোল্লা (৬০), তানভীর শেখ
(৩০), আওয়াল বিশ্বাস (৬৫), বদিউজ্জামান মোল্লা
(২৭), মৃদুল মীর মালোত (২৯),
মিলন খান (৪২), মো.
আশরাফ (২৮), শহিদ সিকদার
(৩৮), মো. জুয়েল রানা
(৩৪) এবং মো. রনি
মিয়া (৩১)।
তারা
ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুর জেলার
বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে
সংঘবদ্ধভাবে চুরি ও চোরাই
ইজিবাইক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে
পুলিশ।
চোরাই ইজিবাইক বিক্রিতে অভিনব পদ্ধতি
পুলিশ জানায়,
চক্রটি প্রথমে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করে গোপন গ্যারেজে নিয়ে যেত। সেখানে
গাড়িগুলো ভেঙে চ্যাসিস, বডি, গ্লাস, কেবিনসহ বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হতো। পরে এসব অংশ
অন্য গাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে জোড়া লাগানো হতো।
শুধু তাই নয়,
শনাক্ত এড়াতে ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির সঙ্গেও জড়িত
ছিল চক্রটি। এসব ভুয়া সিলমোহরযুক্ত প্যাড ব্যবহার করে নম্বর বসিয়ে কম দামে সাধারণ মানুষের
কাছে বিক্রি করাই ছিল তাদের কৌশল, জানায় পুলিশ।
অভিযানে ১৮টি
ইজিবাইক উদ্ধার হয়েছে—এর মধ্যে ১২টি সচল ও ৬টি অচল। এর পাশাপাশি চ্যাসিস, কাটা বডি
অংশ, গ্লাস ফ্রেম, কেবিন, বাম্পার, কাটার মেশিন এবং ট্রাকভর্তি খণ্ডিত যন্ত্রাংশ জব্দ
করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া
একটি ইজিবাইক ২০২৫ সালের একটি চুরি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে শনাক্ত হয়েছে।
পুলিশ সুপার
জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চক্র এবং এর সঙ্গে আরও সদস্য জড়িত থাকতে পারে। তাদের
গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক না কেনা এবং ক্রয়ের আগে বৈধ কাগজপত্র যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এই অভিযানের ফলে এলাকায় ইজিবাইক চুরির প্রবণতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।