প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৭ পিএম
সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার রনজিত বসাক রওনক (২৫) ও পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)। ছবি: সিআইডির সৌজন্যে
টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ খুলে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তাররা হলো—রনজিত বসাক রওনক (২৫) ও পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)। তারা দুজনেই ঠাকুরগাঁও জেলার রানিশৈংকল এলাকার বাসিন্দা।
সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত ২৬ জানুয়ারি রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থেকে রনজিতকে এবং ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে দিনাজপুরের সুইহারী এলাকা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি জানায়, পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলার ( মামলা নং-১০, তারিখ-০৪/০৯/২০২৫) তদন্তের ধারাবাহিকতায় এ গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। এর আগে এই চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক ও তার সহযোগী মো. সাগর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে গ্রুপ খুলে সাধারণ মানুষকে অল্প সময়ে দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখাত। গ্রুপে আগে থেকেই যুক্ত থাকা চক্রের সহযোগীরা বিনিয়োগ করে কীভাবে লাভবান হয়েছে—এমন ভুয়া স্ক্রিনশট ও সাজানো পোস্ট দিয়ে নতুন সদস্যদের প্রলুব্ধ করত। তাদের প্রলোভনে পড়ে ভিকটিমরা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) মোটা অঙ্কের অর্থ পাঠাত। মূলত এসব অ্যাকাউন্ট ছিল তৃতীয় কোনো ব্যক্তির নামে খোলা।
প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ‘ক্যাশ আউট’ বা নগদায়ন করার জন্য চক্রটি এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করত এবং কয়েকদিন পরই তা বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে দিত। কাগজে-কলমে ব্যবসায়িক লোকসান দেখিয়ে সে ওই অর্থ নগদ টাকায় রূপান্তর করত।
গ্রেপ্তার রনজিত বসাক রওনক গ্রুপের প্রধান পরিচালকের নির্দেশে আর্থিক লেনদেনের কাজ দেখাশোনা করত। অন্যদিকে পলাশ চন্দ্র বসাক এই চক্রের অন্যতম হোতা ‘মিশন’-এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। পলাশ প্রতিদিন গড়ে ১,৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেত। তবে লেনদেনের পরিমাণ বেশি হলে তার দৈনিক কমিশন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাত। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সে নিজের নামে নিবন্ধিত একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার উভয় আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে