নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:১৭ এএম
নবীনগর থানা। ফাইল ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আনুমানিক ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৬০ কেজি গাঁজা মাত্র ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসানের দিকে থাকলেও, ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা ঘিরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।
থানার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নবীনগরের সোহাতা–রসুল্লাবাদ সড়কের কানাইবাড়ি মোড়ে এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে কনস্টেবল আবু কাউছার একটি পিকআপ ভ্যান থামান। পিকআপটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও ওই ঘটনায় নবীনগর থানায় কোনো জব্দ তালিকা, মামলা নম্বর কিংবা আলামত সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা থেকে নবীনগর হয়ে ঢাকাগামী ওই পিকআপ ভ্যানে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল। ঘটনার রাতে পিকআপটি আটক হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আনিস নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এসআই জাহিদ ও কনস্টেবল আবু কাউছারের সঙ্গে দরকষাকষি শুরু হয়। প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের গাঁজা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৭ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সমঝোতা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘুষের একটি অংশ নগদে এবং বাকি অর্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয় বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে।
ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বিষয়টি দ্রুত ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা শুরু হয়। ঘটনার পরদিন ৬ জানুয়ারি নবীনগর থানায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে হাজির করা হয়। সেখানে তারা টাকা লেনদেনের বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন বলে সেখানে উপস্থিত একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সূত্র মতে, পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘুষ হিসেবে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারকে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জেলার পুলিশ সুপার আবদুর রউফে স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।’
তবে ১৬০ কেজি গাঁজা ও পিকআপ ভ্যানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি একদিন পরে জানতে পারি। তারা প্রথমে ঘটনাটি অস্বীকার করেছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তারা অনুমতি ছাড়া ও কাউকে না জানিয়ে সেখানে গিয়েছিল। তদন্ত শেষে সব বিষয় স্পষ্ট হবে।