প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪০ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪০ পিএম
ওসমান হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ।ছবি: সংগৃহীত
ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।
সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই আব্দুল লতিফ এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবেদনে বলা হয়, “ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বিষয়ক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
“অনুসন্ধানকালে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত মো. ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির নামীয় এসব হিসাবসমূহ বিশ্লেষণে যথেষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেছে।”
এছাড়াও প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, “ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুন ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ যোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা মতে সম্পৃক্ত অপরাধ।
এমতাবস্থায় হিসাবগুলো মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ১৪ ধারার বিধানমতে অবরুদ্ধকরণ এবং একই আইনের ১৭(২) ধারার বিধান মোতাবেক হিসাব সমূহে স্থিত সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় অভিযোগ নিস্পত্তির পূর্বেই হিসাবসমূহে স্থিত অর্থ বেহাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।”
এদিকে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার আছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির ‘পরিকল্পনাতেই’ হাদিকে হত্যা করা হয়।”
তিনি বলেন, “পতিত (আওয়ামী লীগ) সরকারের বিরুদ্ধে হাদি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
এই মামলায় গ্রেপ্তার ১১ জন হলেন-ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিল বাপ্পির বোন জামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল (ফয়সাল করিম মাসুদ নন)।
আর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ ছাড়াও মোটরসাইকেল চালক আলমগীর, ভারতে পাচারের সহায়তাকারী ফিলিপ, ফয়সলের বোন জেসমিন এবং তার স্বামী মুফতি মাহমুদ পলাতক আছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়।
এদিকে ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাকে সহায়তাকারী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করার কথা জানায় পুলিশ।
তারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা গেলেও পুলিশ শুরুতে কিছু বলছিল না। পরে ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফয়সাল ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন।