প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০৯ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৩ পিএম
মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী। বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলনের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া ছবি।
সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তারের পর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ বুধবার এক বার্তায় বলেছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অনুরোধের ভিত্তিতে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯০ দিনের আটকাদেশে তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ পাঠানো হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আতাউর রহমানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন মাসের আটকাদেশ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বুধবার সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ পাঠানো হয়।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছিল।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বুধবার দুপুরে বলেন, জিএমপির অনুরোধে আতাউর রহমানকে মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিএমপিতে হস্তান্তর করা হয়।
আতাউর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশ।
সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেকার কদরউদ্দিন শিশিরের ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে গত ৭ মার্চ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্রমপুরী তার ওয়াজ, অনলাইন বয়ান ও ফেইসবুকে ‘অতি উগ্র কথাবার্তা প্রচারের জন্য’ পরিচিত। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর সামনের বিক্ষোভে এবং সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া কয়েকজনকে থানা থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নেয়ায় ‘নেতৃত্ব’ দিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্রমপুরী ২০২১ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও সোশাল মিডিয়ায়
বিক্রমপুরীর নাম আসছিল। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে ওই হামলার সমর্থনে কিছু পোস্টও
দেখা যায়।
বিক্রমপুরী বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক। তিনি গ্রেপ্তার
হওয়ার পর ওই সংগঠনের ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে বলা হয়, “অবশেষে জুলাই যোদ্ধা মাওলানা
আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে প্রশাসন। তারা যদি গ্রেফতার করতেই চাই
তবে সাদা পোশাকে কেনো? গুম করতে চায়? নাকি হত্যা করতে চায়? বিনা অপরাধে বিনা ওয়ারেন্টে
রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ইচ্ছে মতো ধারা সাজিয়ে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে
তাকে।
“আমরা কয়েকদিন যাবত
নিরিহ মানুষের গ্রেফতার দেখতেছি। সরকার ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করতেছে। আমরা জানতে
চাই বিক্রমপুরী প্রথম আলোর সামনে গিয়ে ভাংচুর করেছে এমন কোনো ফুটেজ কেউ দেখাতে পারবেন?
বৈষম্যহীন বাংলাদেশে আবারো নতুন করে বৈষম্য হচ্ছে না তো?”