স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৫০ পিএম
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রবিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ দেশের বাইরে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে রবিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি
বলেন, “ফয়সালের শেষ অবস্থানের বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নাই। এটা পেতে আমাদের
বাহিনী এবং গোয়েন্দা সস্থা কাজ করছে। তবে সে যে দেশের বাহিরে চলে গেছে— এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাইনি। অনেক সময় অপরাধীরা তাদের অবস্থান নিয়ে
বিভ্রান্তি ছড়ায়।”
“এ
হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলা হচ্ছে” উল্লেখ করে এই অতিরিক্ত আইজিপি।
“কোনো
রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন কি না?” —এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা এখনো স্পেসিফিক
কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পাইনি। তবে আমরা সঠিক তথ্য পেতে চেষ্টা করছি।”
ডিএমপির
অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির
বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরনের তথ্য আসছে।
তবে আসামি দেশে আছেন নাকি দেশের বাইরে চলে গেছেন, এ বিষয়ে তথ্য নেই।
এ
হত্যাকাণ্ডের কারণ কী ছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তদন্ত চলছে, এখনো জানা যায়নি। এ
হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত কারণ নয়, রাজনৈতিক
কারণ হতে পারে।”
“এখানে
ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যে থাকতে পারে বলে মনে হয়নি। ঘটনার শুরু থেকে আমরা মাঠে ছিলাম।
সব এজেন্সি সমন্বিতভাবে কাজ করেছি। এটা আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য সব দিকগুলো
দেখছি।”
জুলাই
গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারির মুখ এবং সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ
ওসমান বিন হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতার জন্য প্রচার
চালাচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিল এলাকায় প্রচার চালিয়ে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের
বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেল থেকে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ছয় দিন চিকিৎসাধীন
থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
ওসমান
হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান সন্দেহভাজন
হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, তিনি
সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় তার মা–বাবা,
স্ত্রী ও শ্যালকসহ ১০ জন গ্রেপ্তার হলেও ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।