আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২৩ পিএম
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। প্রবা ফটো
ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় বরগুনার আমতলীতে চার নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে জানা যায়, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের মন্নাফ হাওলাদার ও জামাল গাজীর মধ্যে ১৫ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১১ নভেম্বর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ আদালতে মামলা করে। জামাল গাজীর করা একটি মামলায় মন্নাফ হাওলাদারসহ ১২ জন কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে ওই জমির ধান কাটতে যান জামাল গাজীর ভাই ও হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ গাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন। এ সময় মন্নাফ হাওলাদারের বাড়ির নারীরা বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন কদভানু (৪৫), শেফালী (৪০), নুর নাহার (৩৫), মমতাজ (৭০) ও সাদ্দাম হোসেন (৩০)। ভুক্তভোগীরা জানান, ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে কদভানু ও নুর নাহারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, গুরুতর আহত পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুইজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জাকারিয়া, সগির ও লিপি বেগম নামের তিনজনকে আটক করেছে।
মন্নাফ হাওলাদারের জামাতা শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আরিফ গাজীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা পরে আহত কদভানুর ঘরে আগুন দেয় এবং হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দিতে বাধা দেয়। এমনকি তারা হাসাপাতালের সামনে বসে শহীদুলকে মারধরও করে।
তবে হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।