জোবায়েদ হত্যা মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, জুয়েল রানা ও মাসুম মিয়া তাদের স্বীকারোক্তি নেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী ওমর ফারুক ফারুকি তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জুবায়েদের ছাত্রী বর্ষা (১৯), তার বয়ফ্রেন্ড মো. মাহির রহমান (১৯), ফারদিন আহমেদ আয়লান (২০) এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জানান, অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বন্ধু প্রীতম চন্দ্র দাস আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। জবানবন্দির পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইস্তিয়াক হোসেন জিপু বলেন, অভিযুক্তরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি দিয়েছেন। আদালত এখন তাদের বিবৃতির ভিত্তিতে আদেশ দিতে পারে। ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাটি পরিচালনা করা হবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে রাজধানীর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন। প্রতিদিনের মতো তিনি ১৯ অক্টোবর বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বংশালের ৩১নং ওয়ার্ডে নুর বক্স লেনের ১৫নং হোল্ডিং রৌশান ভিলায় পড়ানোর জন্য যান। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের সময় ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোটভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে জানায়, ‘জোবায়েদ স্যার খুন হয়ে গেছে, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে’।
বিষয়টি সন্ধ্যা সাতটার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান ভুক্তভোগী জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। পরে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ওই ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তিনি সিঁড়ি এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে গেলে সিঁড়ির ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে ২০ অক্টোবর জোবায়েদকে কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।
আদালতপাড়ায় উত্তেজনা
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হত্যার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে আদালতে আসেন। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। তারা আসামিদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন। এ সময় আদালতপাড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।