মোহাম্মদ আলম
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:১১ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৪৮ পিএম
স্বাক্ষর জাল করে গাড়ির শো-রুম দখল করে রেখেছেন। শো-রুম ছাড়ার কথা বললে উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় ভুক্তভোগীকে। টাঙ্গাইল শাহিন স্কুলের স্বত্ত্বাধিকারি মো. মাসুদুল আমিন শাহিন রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় ‘হ্যালো কারস’ নামে একটি শো-রুম নিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে করা স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় পিবিআইয়ের তদন্তে ও সিআইডির ফরেন্সিকে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এরপরও ভুক্তভোগী নারী মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভাটারা থানায় করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ভুক্তভোগী কামরুন নাহার আনসার ও ভিডিপির উপ-মহাপরিচালক। তিনি পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল এলাকার প্রগতি স্মরণীতে এক খণ্ড জমির মালিক হন। ওই জমিতে নির্মিত ভবনের নীচ তলায় সামনের দোকান এক ব্যক্তির সঙ্গে ভাড়া চুক্তির মাধ্যমে হ্যালো কারস নামে একটি গাড়ির শো-রুম করার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে ওই গাড়ির শো-রুমের মালিকানা দাবি করে মাসুদুল আমিন শাহিন হাজির হন। শো-রুমের মালিকানা নিয়ে দুই ব্যবসায়ির দ্বন্দ্বে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি মালিককে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ও হস্তলিপি বিশারদ মো. আহসানুল করিম তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে উল্লেখ করেন, নমুনা স্বাক্ষরগুলোর সঙ্গে কামরুন নাহারের স্বাক্ষরগুলোর তুলনামূলক পরীক্ষায় সাধারণ বৈশিষ্ট অর্থাৎ মুভমেন্ট, স্পিড, স্কিল, লাইন কোয়ালিটি, এলাইনমেন্ট, রিদম, স্ল্যান্ট, স্পেসিং, পেন প্রেসার এবং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট; যেমন অক্ষর- ক, ম, র, ন, হ স্ট্রোকস আ-কার, উ-কারের গঠন এবং এদের কমেন্সমেন্ট , কানেকশন, ফিনিশিং, ডটস্, ডায়াকৃটিকস ইত্যাদিসহ সম্প্রাদনরিতীর অমিল পাওয়া গেল।
সিআইডির তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর প্রতারক মাসুদুল আমিন শাহিন বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় বাড়ি মালিক ও তার স্বামীকে হয়রানি করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগি নারি কামরুন নাহার।
অপরদিকে পিবিআই পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন ১৪/১২/২০২৩ তারিখে তার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের ১৫ নম্বরে স্পস্টত উল্লেখ করা হয়েছে, সার্বিক তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণে জানা যায়, মামলার আসামি মো. মাসুদুল আমিনসহ চারজন প্রতারণামূলকভাবে অন্যায় লাভের আশায় অন্যের রূপ ধারণ করে সহযোগীদের নিয়ে পরস্পর যোগসাজশে জাল জালিয়াতিপূর্বক ‘কামরুন নাহার’এর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া গাড়ির শো-রুম ভাড়ার দলিল করেছেন। শাহিনের অন্য সহযোগীরা হচ্ছেন শো-রূমের ম্যানেজার মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মারুফ হোসেন মারুফ ও মনির আহমেদ। আসামির ৪ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে পিবিআই তদন্তে মতামত দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী কামরুন নাহার বলেন, মাসুদুল আমিন শাহিন ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্টতার প্রভাব খাটিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর নাটক সাজিয়েছে। পিবিআই তদন্ত এবং সিআইডির ফরেন্সিকেও বিষয়টি প্রমাণিত।
জানতে চাইলে শো-রুমের ব্যবস্থাপক মো. মোজাহিদ তামিম বলেন, রশিদ আহমেদ জুয়েলের মাধ্যমে এই শো-রুম ভাড়া নেওয়া হয়েছে। স্বাক্ষর জাল করে থাকলে জুয়েল করেছে। আমরা করি নাই।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাসুদুল আমিনকে ফোন দেওয়া হলে প্রশ্ন শুনে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।