ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ২২:০৩ পিএম
প্রতীকী ছবি।
ঝিনাইদহে আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে মনঞ্জুরুল বিশ্বাস (৩৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। বুধবার দুপুরে আদালতে আসা লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। আদালত চত্বরে পুলিশের সামনেই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা জন্ম দেয়।
আহত মনঞ্জুরুল বিশ্বাস শহরতলীর লক্ষীকোল এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী আসমানী খাতুন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ পৌর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহপাঠীর কাছ থেকে ২০ টাকা ধার নেয় লক্ষীকোল এলাকার মনঞ্জুরুল বিশ্বাসের ছেলে দশম শ্রেণিপড়ুয়া রিফাত। পরে সেই টাকা পরিশোধ করলেও সাইকেল আটকে দেয় একই শ্রেণির সহপাঠী আবির। এই নিয়ে দুই সহপাঠীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আবির তার ভাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য শাহ আলম ও ইমরানকে ডেকে আনে। সে সময় রিফাতকে তারা মারার হুমকি দেয়। এ ঘটনা রিফাত তার পিতা মনঞ্জুরুলকে জানায়। এরপর রিফাতের পিতাও স্কুলের সামনে এসে হাজির হয়।
ঘটনাটি মীমাংসা করার কথা বলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য শাহ আলম ও ইমরান মনঞ্জুরুল বিশ্বাসকে ঝিনাইদহ জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে নিয়ে নৃশংসভাবে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছুরিকাঘাত করে জখম করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কোর্টপাড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঝিনাইদহ সদর ফাঁড়ির এসআই রফিকুল ইসলাম।