প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১১:১২ এএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১১:১৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাহমা জাতের গরু নিয়ে সাদিক অ্যাগ্রোর কেলেঙ্কারির বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলার সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান দল। মামলায় সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক বহুল আলোচিত ইমরান হোসেনসহ চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাভার গো-প্রজনন ও দুগ্ধখামারের পরিচালকসহ আরও কয়েকজনকে মামলার আসামি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের অনুসন্ধান দলের নেতা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা সরেজমিন অনুসন্ধান শেষে ইমরান হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করেছি। কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও জানতে পারিনি। কমিশন অনুমোদন দিলে মামলা হবে।’
দুদক সূত্র জানায়, ৩ জুলাই সাদিক অ্যাগ্রোর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার খামার থেকে ব্রাহমা জাতের ছয়টি গরু জব্ধ করা হয়। গরুর গায়ে থাকা কোড নম্বর দেখে দুদক নিশ্চিত হয়, এগুলো ২০২১ সালে বিমানবন্দরে জব্দ হওয়া ১৮টি গরুর ছয়টি। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নথিপত্র জাল করে এসব গরু আমদানি করেছিল সাদিক অ্যাগ্রো। বৈধতা না থাকায় ২০২১ সালে গরুগুলো জব্দ করে বিমানবন্দর কাস্টমস। পরে সেই গরু জব্দ করে সাভারের সরকারি গো-প্রজনন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন কারসাজির মাধ্যমে গরুগুলো নিজের খামারে নিয়ে যান সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান। সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে খামারে এই গরুর প্রজননও ঘটিয়েছে সাদিক অ্যাগ্রো। যা ধরা পড়ে দুদকের ১ জুলাইয়ের অভিযানে। সেখানে সাতটি ব্রাহমা জাতের বাছুর উদ্ধার হয়। যা সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ প্রজননের প্রমাণ।
দুদক সূত্র আরও জানায়, গত ৩ মার্চ দুস্থদের মধ্যে কম দামে মাংস বিক্রির জন্য সাদিক অ্যাগ্রোকে ৪৪৮টি বিভিন্ন প্রজাতির গরু দেয় সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধখামার কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৫টি ছিল ব্রাহমা প্রজাতির। মাংস বিক্রি না করে কথিত ‘বংশ মর্যাদাসম্পন্ন’, ‘খান্দানি’ ইত্যাদি মিথ্যাচারের মাধ্যমে কোটি টাকায় গরুগুলো বিক্রি করে সাদিক অ্যাগ্রো। গবাদিপশু নিয়ে নানামুখী প্রতারণার অভিযোগে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় খাল দখল করে গড়ে ওঠা সাদিক অ্যাগ্রোতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, ব্রাহমা গরু নিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিলেও সাদিক অ্যাগ্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সাভার গো-প্রজনন কেন্দ্র, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ কারণে সাদিক অ্যাগ্রোর পাশাপাশি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরও তদন্তের আওতায় আনছে দুদক।
জানতে চাইলে দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘অনুসন্ধান দল সরেজমিনে দেখে এসে প্রতিবেদন দিয়েছে। আমরা দেখেছি, টিমের সদস্যরা কিছু গরু জব্দ করেছেন। এখন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, গবাদিপশু আমদানির আড়ালে সাদিক অ্যাগ্রো কোনো ধরনের অর্থ পাচার করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে দুদক।