× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাড়ছে সাইবার অপরাধ, মূল শিকার তরুণ ও নারী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ২২:৫৯ পিএম

ঢাকা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রবা ফটো

ঢাকা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রবা ফটো

দেশে সাইবার অপরাধে (ইন্টারনেট/কম্পিউটার ব্যবহার করে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়) যুক্ত হচ্ছে নতুন-নতুন ধরন। এক বছরের ব্যবধানে দেশে এই ধরনের অপরাধ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি; যা দেশে সংঘটিত মোট অপরাধের ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সাইবার আক্রমণের মূল শিকার মূলত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরা; যা মোট ভুক্তভোগীর ৭৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তরুণ বয়সীদের মধ্যে মূল আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু নারী। সার্বিকভাবে আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশই তরুণী। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার হার ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে শিশু ও তরুণেরা উভয়েই ৫০ শতাংশ অনুপাতে আক্রান্ত হয়েছেন। অপরাধের ধরনের মধ্যে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বেদখল ছিল শীর্ষে (২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ)। ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অপপ্রচার ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও ই-কমার্স প্রতারণা হয়েছে ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ আক্রমণ ছিল পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত। এ ছাড়া অনলাইনে হুমকি (১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ), অনলাইনে বিকৃত ছবি প্রকাশ (৫ দশমিক ১৫ শতাংশ), মুঠোফোনে হুমকি (৩ দশমিক ১০ শতাংশ), এমএফএস হ্যাকিং (১ দশমিক ০৫ শতাংশ) এবং এটিএম কার্ড হ্যাকিং (শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ)-এর মতো অপরাধগুলোর বিস্তৃতি বেড়েছে।

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিক্যাফ) পরিচালিত গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। ১৩২ জন ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা থেকে ২০২৪ সালের গবেষণা প্রতিবেদনে এই ফলাফল পেয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৯ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধপ্রবণতা-২০২৪’ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: উদীয়মান প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরে হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক (ডিজি) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে প্রয়োজন ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা। ব্যক্তিগতভাবে যতো সচেতনতা বাড়ানো যাবে ততই কমানো সম্ভব হবে এই ধরনের অপরাধ। সচেতনতার দায়িত্ব সবাইকে সম্মিলিতভাবে পালন করতে হবে। সাইবার সিকিউরিটিকে (নিরাপত্তা) শুধু আইটি হিসেবে দেখলে হবে না, এটি এখন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান সাইবার আইনেরও সংশোধন প্রয়োজন। 

মূল প্রবন্ধে সিক্যাফ উপদেষ্টা প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান বলেন, উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ও সুবিধা এনেছে। একইভাবে অনেক চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। এর মধ্যে উদ্বেগজনক হলো– সম্ভাব্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষা ঝুঁকি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি, প্রযুক্তিতে অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং সর্বোপরি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি। উদীয়মান প্রযুক্তির সুবিধা সর্বাধিক করতে একটি বহুমুখী পদ্ধতি অনুসরণ প্রয়োজন। এর মধ্যে থাকতে পারে নাগরিকের অধিকার ও গোপনীয়তা রক্ষা করে– এমন নীতি ও বিধিমালা তৈরি করা এবং পুনঃপ্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করা জরুরী।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) শাখার সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, চারটি ধারা ছাড়া বিদ্যমান সাইবার অপরাধ আইনের সবগুলো ধারাই হ্যাকিংয়ের আওতায় থাকলেও তা জামিনযোগ্য। যে কারণে আমরা অনেক অপরাধীকেই শস্তির অধীনে আনতে সমস্যা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা দেরিতে অভিযোগ দেওয়ায় আইনের সুরক্ষা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। দেশে শিশু পর্ণো বাড়ছে; এটা শঙ্কাজনক। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্নেন্স (জি.এস.জি) বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ এ হুসেইন, বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শক হুসেইন সামাদ, বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির কোষাধ্যক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজমুস সালিহিন। সিক্যাফ সভাপতি কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুন আশরাফী। আরও উপস্থিত সিক্যাফ সহ-সভাপতি এস এম ইমদাদুল হক এবং প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল মুনয়েম সৈকত প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা