× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘূর্ণিঝড় আইলার ১৫ বছর

ঝড় থেমেছে, কান্না থামেনি

সুনীল দাস চৌধুরী, খুলনা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪ ১৭:১৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

আজ ভয়াল ২৫ মে। ২০০৯ সালের এই দিনে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে লোনাপানিতে তলিয়ে যায় গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূল। লন্ডভন্ড হয় সুন্দরবন, খুলনার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছাসহ উপকূলীয় বেশ কিছু উপজেলা। অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানিতে সবুজ, শস্য-শ্যামলে ভরা এ জনপদ স্তম্ভিত হয়ে যায়। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, মাছ-ফসল, গাছপালা, গৃহপালিত প্রাণীসহ ভেসে যায় মানুষের নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র। ১৫ বছর আগের এ দিনটি আজও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবাসীর জন্য যেন অভিশপ্ত দিন। এই দিনটির কথা মনে করলে আজও ভয়ে শিউরে ওঠে উপকূলবাসী। স্বজন হারানোদের মাটি দেওয়ার জায়গার অভাবে ভাসিয়ে দিতে হয়েছে অনেকের মরদেহ। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলার ১৫ বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। যেন আইলার ঝড় থেমেছে, কিন্তু কান্না থামেনি।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, দক্ষিণ বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর ও মহারাজপুর ইউনিয়নের পাউবোর বেড়িবাঁধের ওপর এখনও অনেক মানুষ সেই থেকে ঝুপড়িতে বসবাস করে আসছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে শতকষ্টের মধ্য দিয়ে বেড়িবাঁধকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তারা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সহায় সম্পদ বলতে যা কিছু ছিল তার সবটুকু জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তা ছাড়া ওই সময়কার নদীর প্রবল ভাঙনে শাকবাড়িয়া, কপোতাক্ষ ও কয়রা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের বসতভিটা, আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গাছপালাশূন্য কয়রার পরিবেশ এখনও সম্পূর্ণ ফিরে পায়নি তার আগের রূপ। যে কারণে শুকনা মৌসুমে প্রচণ্ড তাপদাহে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। লবণাক্ততার কারণে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে কৃষকরা আজও ঠিকমতো ফসল ফলাতে পারেনি। 

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এলাকায় কৃষকরা আইলার পর থেকে বিগত কয়েক বছর ধরে বেশকিছু জমিতে ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। আইলায় ভেঙে যাওয়া পাবনা বাঁধ, হারেজখালী, পদ্মপুকুর, শিকারিবাড়ি, পাথরখালি মেরামত হয়েছে। তবে কয়রার ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত মাটি নেই। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা, খাসিটানা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙা উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরি, গাববুনিয়া, গাজিপাড়া, কাটকাটা, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬নং কয়রা, ৪নং কয়রার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা, মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়ি, দশালিয়া, লোকা, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি, নয়ানি, শেখেরটেক এলাকার বেড়িবাঁধগুলো অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সব বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে আবারও গোটা উপজেলা লোনাপানিতে তলিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে গাজীপাড়া বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তা ছাড়া কাটকাটার অবস্থা ভয়াবহ। 

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, আইলার পর গোটা জনপদে মানুষের কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাড়ি জমালেও ১৫ বছর শেষে তারা অনেকে এখনও বাস্তুভিটায় ফিরতে পারিনি। জলোচ্ছ্বাসের পর থেকে এখানকার মানুষ খাবার পানির উৎস হারিয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছেন। অনেক জায়গার দীর্ঘ ১০-১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো সংস্কারের অভাবে আজও জরাজীর্ণ অবস্থায়। তিন লক্ষাধিক মানুষের দুর্যোগকালীন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গেছে। 

বর্তমানে আইলাদুর্গত এলাকার গ্রামে গ্রামে চলছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। ঘরবাড়িহারা উপজেলার এখনও প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খুলনার উপকূলীয় দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। 

দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মানুষের কপালে কোনো রকম দুবেলা-দুমুঠো ভাত জুটলেও বিশুদ্ধ পানি জোটানো দায় হয়েছে। ওই সব গ্রামের বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রিত মানুষের ঘর নেই, জমি নেই, স্কুল নেই, নেই খাবার পানি। এলাকায় দিনমজুর-শ্রমিকের কোনো কাজ নেই। দুর্গত এলাকায় ঘরে ঘরে চলছে যেন নীরব দুর্ভিক্ষ। 

উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের গুনারী গ্রামের তৈয়বুর রহমান, ফজলুল গাজী, কালিপদ সানা, মহিবুর মীর কামারখোলা ইউনিয়নের ফকিরডাঙ্গা গ্রামের অবনী রায়, প্রহলাদ মণ্ডল, বিনোদ বিহারী রায়, শফিকুল ঢালী জানান, আইলার পরবর্তী সময় অনেক জনপ্রতিনিধি আমাদের পুনর্বাসনের অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তাদের আর দেখা যায় না। এলাকায় খাবার পানির উৎসসহ যেসব পুকুর ছিল সেগুলো সবই প্রায় শুকিয়ে গেছে। ভাত না খেয়ে থাকা যায়, কিন্তু একটুখানি পানির তৃষ্ণা মিটানোর জন্য এলাকায় চলছে হাহাকার। 

সুতারখালী ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, এখনও এ ইউনিয়নের অনেক পরিবার অর্থাভাবে গৃহ নির্মাণ করতে না পারায় খোলা আকাশের নিচে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর জীবনযাপন করছেন।

খুলনা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মশিউল আবেদীন বলেন, কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপের বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোর কাজ করা হবে। তা ছাড়া যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা