× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গাজীপুরে তিন বছরে ১৯৮৪ ‘আত্মহত্যা’

রেজাউল করিম, গাজীপুর

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪ ১৭:০৮ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন শেরপুরের ইসরাফিল ও ময়মনসিংহের রোকেয়া খাতুন। এরপর চলে আসেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ বেগুনবাড়ি এলাকায়। সেখানে ভাড়া বাসায় থেকে ইসরাফিল স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে ও রোকেয়া স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন। হঠাৎ অভিমানে গত ২৬ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে মৃত্যুর কারণ লিখে যান চিরকুটে। 

একটি কাপড়ের দোকানের কার্মচারী মো. হৃদয়। তিনি গোপনে আর্জিনা নামের এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী আছে সেটি তিনি জানতেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হতো। এর জের ধরে আর্জিনাকে নিজ ঘরের খাটের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কাপড় গুঁজে তার সামনেই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন হৃদয়। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি।

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার রবিউল ইসলাম স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। একই ক্লাসের এক মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দ্রুতই তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তবে কয়েক মাসের মধ্যে তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গেও যায়। এতে অভিমান, হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে রবিউল। ক্লাসের বন্ধুরাও তাকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করত। অভিমানে রবিউল বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তার পরিবার টের পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে যাত্রায় তার প্রাণ বেঁচে যায়। এটি শুধু একজন রবিউলের গল্প নয়, গাজীপুরে এমন তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুর মহানগর ও জেলা পুলিশের তথ্যমতে গত তিন বছরে গাজীপুরে আত্মহনন করেছেন ১ হাজার ৯৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৩ জন এবং নারী ৯৭১ জন। যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং শিক্ষিত। আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত তিন বছরে গাজীপুরে ১ হাজার ৯৮৪ ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩ জন পুরুষ ও নারী ৯৭১ জন। তথ্য বলছে, ২০২১ সালে মোট ৬৮৫ জন আত্মহত্যা করেছে, এর মধ্যে পুরুষ ২৮৭ ও ৩৯৮ জন নারী। ২০২২ সালে ৬৩৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৭২, নারী ২৬২ জন। ২০২৩ সাল ৬৬৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৫৪ জন, নারী ৩১১ জন।

হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান মাযহারুল হক জানান, গাজীপুরের অধিকাংশ যুবক-যুবতীর আত্মহত্যার ঘটনা আবেগতাড়িত। চাকরি হারানো, হতাশা, প্রেমে ব্যর্থ, পরীক্ষার ফল খারাপ, বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়াসহ ছোটখাটো বিষয়েই আবেগতাড়িত হয়ে অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, মানুষের টাকাপয়সা একটি দিক আর বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে আরেকটি দিক। টাকাপয়সা আর বুদ্ধিমত্তার একটা সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। যদি সমন্বয় না থাকে সেক্ষেই একজন মানুষ আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয়। আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্য মানুষকে হতাশাগ্রস্ত করে। যার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না করার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা সাধারণত ইউডি (আনন্যাচারাল ডেথ বা অপমৃত্যু) হিসেবেই থেকে যায়। এগুলোর মধ্যে খুব কম মামলাই পুলিশ তদন্ত করে। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে আইনের এই ধারাটিকে গুরুত্বহীনভাবে দেখা হয়।

আত্মহত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্য মো. সুমন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৩০৯ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, যদি কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আত্মহত্যা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনেও অন্যায় ও পাপকাজ। বিষয়টি নিয়ে সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা