× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৃতপ্রায় কালন্দিতে প্রাণ ফিরবে আবার

রুবেল আহমেদ, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৪ ১৬:০৮ পিএম

একসময়ের খরস্রোতা কালন্দি খাল দখল আর দূষণে এখন মৃতপ্রায়। বৃহস্পতিবার তোলা। প্রবা ফটো

একসময়ের খরস্রোতা কালন্দি খাল দখল আর দূষণে এখন মৃতপ্রায়। বৃহস্পতিবার তোলা। প্রবা ফটো

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে সীমান্ত পার হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার স্থলবন্দর, গাজীরবাজার, নারায়ণপুর বাইপাস মোড়, পৌর এলাকার সড়ক বাজার ও বড় বাজার দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিতাস নদীতে মিলিত হয়েছে কালন্দি খাল। ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার পানিও এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়। একসময়ের খরস্রোতা কালন্দি খাল দখল আর দূষণে এখন মৃতপ্রায়। 

আখাউড়া প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্লাব নামে একটি সংগঠনের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের নভেম্বরে কালন্দি খালটি দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটিতে ৩৪ জন মালিকের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে নামেমাত্র অভিযান পরিচালনা করে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়।

আখাউড়া উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্রের ৩৭৫ ও ১৪৯ দাগের অংশে সবচেয়ে বেশি দূষণ ও দখল হয়েছে। শহরের ভেতরে হওয়ায় দখলদারদের নজর খালের ওপর।

স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পর খালটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় খুশি হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রকৃতিপ্রেমীরা। কিন্তু ওই উচ্ছেদ অভিযানের পর দেড় বছর গত হলেও কালন্দি খালে প্রাণ ফেরানোর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এখন হতাশ স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবু অপেক্ষা মরা খালে প্রাণ ফেরার। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক ধাপে খালটি খনন করা হবে। প্রথম ধাপের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ হয়ে গেছে। দ্রুত খননকাজ শুরু হবে।

আখাউড়া প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্লাবের সদস্য সৈকত আলী বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি এই খাল দিয়ে নৌকা চলেছে। অনেক পানিপ্রবাহ ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে এটি দখলের কারণে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখানে এখন আর পানি দেখা যায় না। আমরা দীর্ঘদিন থেকে খালটি উদ্ধার করে খননের দাবি জানিয়ে আসছি। 

কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন খালটি খনন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খালের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত খনন করার প্রয়োজন। আমরা শুনেছি খালটি খনন করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। আশা করছি জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি খনন করা হবে।

পৌর শহরের রাধানগরের বাসিন্দা দীপক ঘোষ বলেন, পৌর শহরের বৃহত্তর এলাকা রাধানগর ও সড়ক বাজারের মধ্য দিয়ে কালন্দি খালটি প্রবাহিত। এটি যুগে যুগে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আর পানি প্রবাহিত হয় না। যার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ময়লা-আর্বজনার স্তূপ জমে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। খালটি উদ্ধারের জন্য একটি সংগঠন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু দিন আগে সরকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে শুনেছি। 

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আক্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল এটি। খাল খননের কাজটি কয়েক ধাপে করা হবে। এর নাব্যতা আগের মতো ফিরিয়ে আনার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তারা প্রথম ধাপে দেড় কিলোমিটার খাল খননের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে। দ্রত খননকাজ শুরু হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা