পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৪ ২৩:৫৬ পিএম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণ বিধি অমান্য করে গোপন কক্ষে সিল মারা ব্যালটের সঙ্গে নিজের ছবি (সেলফি) তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আশরাফুল ইসলাম নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান। এছাড়া এক বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর আইডিতে পোস্টসহ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আইডিতে কমেন্ট করেছেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের আলোচনা ও সমালোচনায় বৃহস্পতিবার (৯ মে) দুপুরের দিকে নিজের ফেসবুক আইডির পোস্টটি সরিয়ে নেন তিনি। এর আগে বুধবার (৮ মে) উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।
আশরাফুল ইসলাম তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
জানা গেছে, ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বুধবার ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম আচরণ বিধি অমান্য করে মোবাইল নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এরপর ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট দেয়ার গোপন বুথে গিয়ে ব্যালটে সিল মেরে সেখানেই সিল মারা ব্যালট সহ ছবি (সেলফি) তোলেন। পরে ওই দিনই বিকালে ফেসবুকের ব্যক্তিগত আইডিতে পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায় এক হাতে তিনি সিল মারা ব্যালট ধরে আছেন। সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেন ‘ভালবাসা নেতার পিছনে যায় না, যায় ভালবাসার পিছনে’।
এর আগেও এই জনপ্রতিনিধি গত ৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করে সিল মারা ব্যালটের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন।
তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী ভোট কেন্দ্রের গোপন বুথে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ছবি তোলা সম্পূর্ণ বেআইনী। একইসাথে কোন ভোটার মোবাইল ফোন নিয়ে ভোট কক্ষে প্রবেশ ও ব্যবহার করা যাবে না। তবে ভোট কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একজন জনপ্রতিনিধির এমন আইন ভঙ্গ করা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে এলাকার মানুষেদের মাঝে।
এবিষয়ে শালবাহান ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, ‘তিনি যে কাজটি করেছেন তা বেআইনি। বিষয়টি আমি দেখতেছি।’
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় তিনি যে কাজটি করেছেন সেটি ঠিক নয়। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাচন ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।