ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২২ ১২:৫৪ পিএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২২ ১৪:২৭ পিএম
তৈরি হচ্ছে চুনিলালের সুস্বাদু রাজভোগ। ছবি : প্রবা
সুস্বাদু ছানামুখীর জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খ্যাতি দেশজুড়ে। মিষ্টিপ্রেমীদের মুখে মুখে বিখ্যাত চুনিলালের রাজভোগের গল্প। জেলার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত অরুয়াইল বাজারে প্রায় ৪০ বছর ধরে রাজভোগ তৈরি করছেন চুনিলাল মল্লিক।
দেশি জাতের গরুর খাঁটি দুধের ছানায় তৈরি এ রাজভোগ অনেক সুস্বাদু হওয়ায় খুব দ্রুত মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এখনও রাজভোগ তৈরির জন্য প্রতিদিন বাজারে খুঁজে খুঁজে দেশি জাতের গরুর দুধ কেনেন তারা। মূলত বানানোর কলাকৌশল ও দেশি জাতের গরুর দুধের ছানায় তৈরি হওয়ায় বিখ্যাত চুনিলালের রাজভোগ।
সম্পূর্ণ ছানায় তৈরি এ রাজভোগ মুখে দিলেই মিলে যায়। তাই দেশ ছাড়িয়ে এর সুনাম ছড়িয়েছে বিদেশেও। স্বাদে ও মানে অনন্য হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে চুনিলালের রাজভোগ খেতে।
চুনিলালের ছেলে গোপাল মল্লিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে অরুয়াইল বাজারে একটি দোকান দেন তার বাবা। বাজারের পুবপাশে এর অবস্থান। ছোট্ট দুই কক্ষের সেই দোকানের একটিতে চলে রাজভোগ তৈরির কাজ, অন্যটিতে বেচাবিক্রি।
বানানোর পর তিন দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে চুনিলালের রাজভোগ। চুনিলাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে রাজভোগ ছাড়া অন্য কোনো মিষ্টান্ন তৈরি হয় না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে চুনিলালের বিখ্যাত রাজভোগ খেতে। অনেকে আবার বিদেশেও নিয়ে যান। একেকটি রাজভোগের ওজন ২০০ গ্রামের বেশি। তবে চুনিলালের রাজভোগ কেজিতে নয়, বিক্রি হয় পিস হিসেবে। প্রতি পিসের দাম ৫০ টাকা। চাহিদা বেশি থাকলেও প্রতিদিন কেবল ২০০ পিস রাজভোগ তৈরি করেন তারা।
গোপাল মল্লিক বলেন, ‘আমি বাবার সঙ্গে প্রায় ২০ বছর ধরে রাজভোগ তৈরি করছি। প্রতিদিন ২০০ পিস মিষ্টি তৈরিতে আমাদের ২ মণ দুধের প্রয়োজন হয়। এ দুধ থেকে ১২ কেজি ছানা তৈরি হয়। আমাদের রাজভোগে ৯৯ ভাগ থাকে ছানা আর ১ ভাগ ময়দা। রাজভোগটা যেন ফোলে সেজন্য সামান্য ময়দা দেওয়া হয়। ভেজালমুক্ত হওয়ায় মানুষ আমাদের দোকানের রাজভোগ খেতে অনেক পছন্দ করেন।’
চুনিলালের সুস্বাদু রাজভোগ
চুনিলালের রাজভোগ খেতে আসা স্থানীয় সাংবাদিক মো. মনছুর আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চুনিলালের মিষ্টির সুনাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাদে ও মানে অন্যসব দোকানের রাজভোগের চেয়ে আলাদা হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে বন্ধুরা ফোন করলে এ রাজভোগ পাঠাই।’
রাজভোগ খেতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘চুনিলাল খুব যত্ন নিয়ে রাজভোগ তৈরি করেন। আমাদের জানামতে ভেজাল কোনো পদার্থ তিনি ব্যবহার করেন না। সেজন্য এ রাজভোগের সুনাম সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা প্রতিদিনই খেতে আসি। তা ছাড়া বিদেশেও পাঠাই।’
‘খাঁটি দুধের ছানা দিয়ে তৈরি এ রাজভোগ অনেক সুস্বাদু। এ ছাড়া বানানোর কলাকৌশলের কারণেও এর খ্যাতি ছড়িয়েছে সবখানে। চুনিলালের এ রাজভোগ শুধু সরাইল নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলারও ঐতিহ্য বলে মনে করেন অনেকে।