হিলি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৬:১২ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৭:১৩ পিএম
মেহেদি হাসানের কালো ধানের ক্ষেত। ছবি : প্রবা
ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানিতে ১৮ বছর চাকরি করেছেন দিনাজপুরের মেহেদি হাসান। এবার গ্রামে ফিরে তিনি চাষ করছেন ক্যানসার প্রতিরোধী ব্ল্যাক রাইসসহ ঔষধি গুণসম্পন্ন চার জাতের ধান।
জেলার হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে তিনি প্রথমবার এ ধরনের ধান চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচ বিঘা জমিতে চীন ও ফিলিপাইন জাতের জিংক সমৃদ্ধ ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু করেছেন তিনি।
মেহেদি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন চেইন শপের সঙ্গে চাল বিক্রি নিয়ে কথা হয়েছে। সেখানে প্রতি কেজি চাল ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।’
তবে চাষিরা এই চাল কেমন দামে বেচতে পারবেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চাষিরা প্রতি কেজি ধান ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।এক বিঘা জমি থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ধান পাওয়া সম্ভব।
এই ধানের ফলন ও গুণাগুণ বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলায় এবারই প্রথম ব্ল্যাক রাইস ধানের চাষ হচ্ছে। মেহেদি হাসান এই উদ্যোগ নিয়েছেন। ধানের গাছ ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই জাতটি একেবারেই নতুন ও অনেক প্রসিদ্ধ। এই ধানে অ্যান্টিসায়োরিন রয়েছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধী। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও জিংকের সঙ্গে প্রোটিনের পরিমাণও ভালো থাকে। আছে সোডিয়াম। সব মিলে এই ধানের চাল শরীরের জন্য উপকারী।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই ধানের চাষ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বভিাগ। ইতোমধ্যে মেহেদির উদ্যোগ দেখে অন্য অনেক কৃষকও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। নতুন এই জাতটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিলি থেকে বোয়ালদাড় গ্রামে যেতে সড়কের পাশে চোখে পড়ে মেহেদি হাসানের এই ধানের জমি। ধানের রঙের কারণে সড়কে চলাচলরত মানুষসহ কৃষকদের মনে কৌতূহল বেড়েছে।
মেহেদি এর আগে ব্যাংকে ও বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করেছেন বলে জানান।
কৃষিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একজন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা। এর আগে আমি নতুন কিছু ফলের জাত চাষ করেছি। এবার ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু করেছি। চীন ও ফিলিপাইন জাতের ব্ল্যাক রাইস চাষ করেছি। এ ছাড়া জিংক সমৃদ্ধ বেগুনি রঙের ধান ও ফাতেমা জাতের ধান লাগিয়েছি। এ সব জাতের ধান ঢাকা, নাটোর ও পার্বতীপুর থেকে সংগ্রহ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি এই ধান চাষ করছেন। তাছাড়া তার দুই সহযোগী দুই বিঘা করে চার বিঘা জমিতে চাষ করছেন একই ধান। স্থানীয় কৃষি অফিস সব ধরনের পরামর্শসহ সহযোগিতা দিচ্ছে।