চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৪ ১৬:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪ ২২:০০ পিএম
কর্ণফুলীতে অপরিশোধিত চিনির গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় গুদাম পরিদর্শন করেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অপরিশোধিত চিনির গুদামে লাগা আগুনের ঘটনাকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুবিধা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর গ্রামে অবস্থিত অগ্নিকাণ্ডের কারখানা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ‘কিছু ব্যবসায়ী আছেন যারা এই ধরণের পরিস্থিতিকে পুঁজি করতে চান। তবে, আমাদের কাছে ইতোমধ্যেই সরবরাহ করার জন্য চিনির পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।’
আসন্ন রমজানে চিনির সরবরাহে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দুই-একদিনের জন্য কারসাজি করতে পারে। তবে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। হয়তো দুই-একদিনের জন্য হবে আরকি! দুই একদিন পর থেকে আমার ডেলিভারি শুরু হয়ে যাবে। প্রোডাকশন চালু করব এবং বানানো মাল আছে। তা দিয়ে এক সপ্তাহ মিনিমাম চলবে। প্রোডাকশনে যেতে লাগবে দুইদিন। আর সমস্যা হবে না। এগুলো সমস্যা নাই, মালেরও সমস্যা নাই। তেমন হলে আমি পাশের দেশ থেকে চিনি নিয়ে আসতাম, ইম্পোর্ট করতাম। এরকম কোনো সমস্যা হয় কিনা আমি তা দেখে গেলাম। মেইনলি আগুনটা নিভে গেলে হয়ে যাবে আমার। ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে এস আলমের এই প্রতিষ্ঠানে রিফাইন্ড সুগার মিল কারখানার গোডাউনে থাকা মজুদকৃত কাঁচামালের পরিমাণ নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে তথ্যের গরমিল দেখা গেছে। শুরুতে কারখানার কর্মকর্তারা গোডাউনে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন চিনির কাঁচামাল মজুদ ছিল দাবি করলেও রাতে এক লক্ষ মেট্রিক টন এবং মঙ্গলবার সকালে গোডাউনে দেড় লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচামাল মজুদ ছিল বলে দাবি করেছেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, গোডাউনে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন চিনির কাঁচামাল ছিল। তার কিছু সময় পরপর সোমবার রাতে এস আলম লিমিটেড চট্টগ্রাম মূল কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) হোসাইন রানা বলেন, গোডাউনে চিনির কাঁচামালের পরিমাণ এক লাখ মেট্রিক টন।
তবে মঙ্গলবার সকাল দশটায় এস আলম কোম্পানির হেড অব স্টেট মোস্তাফা আদিল সাংবাদিকদের বলেন গোডাউনে দেড় লক্ষ মেট্রিক চিনির কাঁচামাল ছিল।
সোমবার (৪ মার্চ) বেলা ৩টার কিছু আগে আগুন লাগে কর্ণফুলীর ইছানগরস্থ এস আলম রিফাইন্ড সুগার মিলের গোডাউনে। চারটার দিকে আগুন পুরো গোডাউনে ছড়িয়ে পরে। তবে আগুন লাগা গোডাউনের আশেপাশে আরো চারটা গোডাউন থাকলে সেগুলোতে আগুন পৌঁছায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি অন্যান্য গোডাউনে থাকা কাঁচামালেরও। ফায়ার সার্ভিস এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে এমনটা জানা যায়।
এদিকে, আগুন লাগার ২০ ঘন্টা পেরিয়েও গেলেও গোডাউনের আগুন নেভেনি। ঘটনা তদন্তে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সার্বিক ও ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার পাশা।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঘটনাস্থল থেকে জানান, এই আগুন পুরোপুরি কবে নাগাদ নেভানো সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল।
তিনি বলেন, চিনির কাঁচামালগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে গোডাউন থেকে তরল আকারে বের করা যাচ্ছে কিন্তু কোনো ভাবেই পানি দিয়ে নেভানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি ধারণা করছেন, পানির প্রেশারে হয়ত গোডাউনের কাঁচামাল সব বের করেই আগুন নেভানো যাবে।