বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:২৮ পিএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪৩ পিএম
বগুড়ায় বউ মেলায় কেনাকাটা করতেন আসেন বিভিন্ন বয়সি নারীরা। প্রবা ফটো
বগুড়ায় পোড়াদহ বা জামাই মেলার পরের দিন বউ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান গ্রামে বসে ব্যতিক্রমী এই মেলা।
জানা গেছে, উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীর শাখা গাড়ীদহ খালের তীরঘেঁষে প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে মাঘ মাসের শেষ বুধবার সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে বসে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। বিশাল আকৃতির মাছের জন্য বিখ্যাত এ মেলা উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে নতুন বউ-জামাই যেমন আসেন, তেমনি পুরোনো আত্মীয়স্বজনও কেউ বাদ পড়েন না। কিন্তু সেসব আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শুধু পুরুষরাই পোড়াদহ মেলায় যাওয়ার সুযোগ পান। নিরাপত্তা এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় মেলায় নারীরা প্রবেশ করতে পারেন না। এ অবস্থায় নারীদের জন্য পোড়াদহ মেলার পরের দিন বউ মেলার আয়োজন করা হয়। ৩০ বছর ধরে পোড়াদহ মেলার পরের দিন ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে এ মেলাটি।
মেলায় শামিয়ানা টানিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। সকাল থেকেই এলাকার সব বয়সি তরুণী ও নারীরা কেনাকাটার জন্য আসতে থাকে। দুপুরের দিকে মেলা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মেয়েদের প্রসাধনী সামগ্রীই মেলার প্রধান আকর্ষণ হলেও তার সঙ্গে স্থান পায় হরেক রকমের সাজ-সরঞ্জাম, চুড়ি, মালা, ফিতা ছাড়াও ঘর সাজানোর শৌখিন জিনিসপত্র এমনকি বাসনপত্রও পাওয়া যায় এই মেলায়। মূলত নারীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো হলেও মায়েদের কোলে চড়ে কিংবা হাত ধরে মেলায় বেড়াতে আসা শিশুদের জন্য নানারকম খেলনা, বেলুন, খাদ্যসামগ্রী, নাগরদোলা ইত্যাদিও পাওয়া যায়।
মেলায় ঘুরতে এসেছেন মিলা খাতুন। তিনি বলেন, পোড়াদহ মেলার পরেরদিন এই বউ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে কোনো পুরুষ আসে না। আর এখানে বিক্রেতারাও নারী। তাই এই মেলায় আমরা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারি।
জমিলা আখতার নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, মেয়েকে নিয়ে মেলায় এসেছি। মেয়ের সাজসজ্জার কিছু জিনিস কিনে দিব।
বউ মেলার আয়োজক জাহিদুল ইসলাম বলেন, পোড়াদহের মেলায় পুরুষদের ভিড়ের কারণে এলাকায় নারীরা তেমন যেতে পারে না। তাই শুধুমাত্র নারীদের জন্য এই বউ মেলার আয়োজন করা হয়। এখানে ক্রেতা বিক্রেতা সবাই নারী। এখানে কোনো দোকানিকে টোল দিতে হয় না। তাই প্রতি বছর দোকানের সংখ্যা বাড়ছে।