প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:১৬ পিএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:৪৭ পিএম
সন্ত্রাসী মোশা বাহিনীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশাররফ হোসেন ওরফে মোশার নাওড়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টেঁটা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রূপগঞ্জ থানার এসআই মনির হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় মোশা, তার ভাই আনোয়ার, আলী আজগর, সাখাতুল্লা ও শাহজাদা এবং মোশার ছেলে নিরব ও স্বাধীনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে পুলিশ।
রূপগঞ্জ থানার এসআই মনির হোসেন জানান, দেশীয় অস্ত্র টেঁটা, রাম দা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নাওড়া পূর্বপাড়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলাল হোসেনের বসতবাড়িতে শনিবার হামলা করে মোশাররফ ও তার দলবল। তারা গুলি করে, বোমা ফাটিয়ে ও কুপিয়ে কয়েকজনকে জখম করে। এ ঘটনায় ৩১ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা ও বসতবাড়িতে মামলার অভিযোগে সোমবার রাতে মামলা হয়েছে। এই মামলার পর আসামি ধরতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোশাররফের বাড়ি থেকে ১৩টি টেঁটাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি লাঠি, এসএস পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন ওরফে মোশাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে থানায় নানা অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয়েছে। মামলার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে আছে। এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে মোশাররফ হোসেনের নাওড়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু টেঁটাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি মামলার আসামি হওয়ায় আমরা মোশাররফসহ অপর আসামিদের খুঁজছি। মোশাররফকে এলাকায় দেখামাত্র রূপগঞ্জ থানা পুলিশকে জানাতে অথবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ওসি।
র্যাব-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশাররফ হোসেন ওরফে মোশা হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলসহ ৪৭ মামলার আসামি। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় আসামি হওয়ার পর ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে গত ১ জুন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত থেকে মোশাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ২১ আগস্ট জামিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে কিছু দিন আত্মগোপনে থাকেন।
এলাকাবাসীর অনুরোধে মোশাকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করেন স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী। এরপর তিনি আস্তানা গাড়েন রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকার পশ্চিমে অবস্থিত একটি আবাসিক এলাকায়। ওই আস্তানায় বসেই মোশা তার পুরোনো সন্ত্রাসী বাহিনীকে পুনর্গঠন করেন। স্থানীয় ও বহিরাগত মাস্তান, মাদকাসক্ত, খুনি ও চাঁদাবাজদের দলে ভিড়িয়ে বাহিনীকে আরও বড় করে তুলেছেন। তার বিশাল বাহিনীর কাছে রয়েছে বিপুল পরিমাণ টেঁটা, রাম দা, ছেনি, চাপাতি, হকিস্টিক, লাঠিসোঁটাসহ ভয়ানক সব দেশীয় অস্ত্রের মজুদ। তারা বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে থাকে।
জানা গেছে, নাওড়া গ্রামের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি ভূমিদস্যু গ্রুপের অর্থায়নে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সোর্স থেকে অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছেন মোশা। মোশা ও তার বাহিনীর সদস্যরা রূপগঞ্জের দাউপুর, কায়েতপাড়া, বড়ালু, বরুনা, ছাতিয়ান, হরিণাগ্রাম, নগরপাড়া, ইছাখালি, নাওড়া, নিমেরটেক, পূবগাঁও, চনপাড়া, বড়ালু পাড়াগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মাঝিনা, পশ্চিমগাঁও, ছনপাড়া, উলাব, ডাক্তারখালি, বসুলিয়া, কায়েমসাইর, চানের টেক, খামারবাড়া, বাগবাড়ি, নয়ামাটি, তালাশকুটসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই মহড়া দিচ্ছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
নাওড়ার বাসিন্দা আলাল হোসেন জানান, মোশার বাহিনীতে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করে তার ভাই আনোয়ার হোসেন (৪০), আলী আজগর (৫৫), শাহাজাদা (৪২), সাখাতুল্লাহ (৪২), মোশার ছেলে নিরব (২৮) ও স্বাধীন (২৪), নাওড়া গ্রামের পাশা মিয়ার ছেলে আলাদী (৪৫) ও দুলাল (৪৪), একই গ্রামের মজনুর ছেলে মুসা (৩৪), ফিরোজের ছেলে রুবেল (৩৫), শাহীর ছেলে নিলু (৪৪), পাশা মিয়ার ছেলে জাগু (৪৮), ফজুলের ছেলে ইয়াজুল (২৮), রশীদ মিয়ার ছেলে আরমান (২৮), মজিবরের ছেলে ওয়াসিম (৪২), শাহাবুদ্দীনের ছেলে নাজমুল (৩২), আব্বাস (৩৫) ও আবুল (৪৮), এমরাতের ছেলে রিফাত (২৪), আমির হামজা ওরফে ভুট্টো (৫৫), তার ছেলে হানিফ (১৮), নবী মিয়ার ছেলে মোর্শেদ (৩০), কবির হোসেনের ছেলে জয়নাল (৩৫), আক্তার হোসেনের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩২), মজিবরের ছেলে মাসুম মিয়া (৪৬), ছালামের ছেলে দেলোয়ার (৪৭), মোক্তার মিয়ার ছেলে তাজেল (৩৫), লালু মিয়ার ছেলে মোক্তার (৫৫), আজিজুল্লার ছেলে ওসমান (২৪) ও পূর্বগ্রামের কাকন মিয়ার ছেলে অনিকসহ (৩২) আরও ৬০-৭০ জন। কায়েতপাড়া ও দাউদপুর এলাকার কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, ভয়ংকর অস্ত্রধারীদের অনেকেই মাদক কারবারে জড়িত। তাদের আইনের আওতায় আনারও অনুরোধ করেছে স্থানীয়রা।