চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৩৫ পিএম
জাতীয় তীর্থধাম বাড়বকুণ্ডধাম ও চন্দ্রনাথ রক্ষায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। প্রবা ফটো
বাড়বকুণ্ডধাম ও চন্দ্রনাথ তীর্থধাম রক্ষায় ১০ দফা দাবি উঠেছে। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান চন্দ্রনাথধাম রক্ষা পরিষদ ও বাড়বকুণ্ড তীর্থধাম উন্নয়ন কমিটির নেতারা। একই সঙ্গে তারা চন্দ্রনাথ ধামে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন কমিটির আহ্বায়ক পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। সেখানে মোট ১০টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েতদের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ ও বেদখলমুক্ত করার জন্য খসড়া আইনের বিষয়ে হিন্দু সংগঠনের প্রস্তাবিত সংশোধনীসমূহ যুক্ত করে অবিলম্বে আইন পাস ও কার্যকর, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির পক্ষ থেকে শহীদ গংদের বরাবর বেআইনিভাবে প্রদত্ত দেবোত্তর সম্পত্তির বন্দোবস্তি বাতিল ও উচ্ছেদ, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণ ও সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয়পূর্বক দেবোত্তর সম্পত্তির এলাকা সুচিহ্নিত করে অবিলম্বে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ, অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও বেদখলীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্রাইন কমিটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকল্পে যাবতীয় হিসাব-নিকাশ ও কর্মকাণ্ড সনাতনী জনসম্মুখে প্রকাশ, সীতাকুণ্ডের শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথধাম ও বাড়বকুণ্ড তীর্থধামকে জাতীয় তীর্থস্থান ঘোষণা করে সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, উভয় ধামের সম্পত্তিগুলো রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, যেসব সম্পত্তি বেদখল হয়েছে সেগুলো পুনরুদ্ধার এবং যেসব জায়গা দখলের জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে সেগুলো বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথধাম নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক সাম্প্রদায়িক প্রচারণা বন্ধ এবং এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয় লিখিত বক্তব্যে।
এছাড়া অধ্যক্ষ চিন্ময় বলেন, যারা বিভিন্নভাবে সনাতন ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি করে বা প্রচারণা চালায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সারাদেশে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বলি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং যারা কারাগারে আছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান বাড়বকুণ্ড তীর্থধামে স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন মঠ ও মিশনের প্রধানদের সমন্বয়ে চন্দ্রনাথধামের আধ্যাত্মিক মান সুনিশ্চিতকল্পে একটি যৌথ সেল গঠনসহ মোহন্ত নিয়োগ এবং সীতাকুণ্ডের লবণাক্ষ ও কুমারীকুণ্ডের দেবোত্তর সম্পত্তি খাস বাতিল করে পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বাড়বকুণ্ড শ্রী শ্রী জ্বালামুখী কালী বিগ্রহের সেবায়েত স্মৃতিলতা ভারতী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তী, সাংবাদিক আয়ান শর্মা, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা, সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ, সনাতনী জাগরণী সংঘের সভাপতি কাঞ্চন আচার্য্য, জাগো হিন্দু পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রুবেল কান্তি দে, হিন্দু মহাজোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট যীশু রক্ষিত, সেবায়েত কালী নারায়ণ ভারতী, মিঠুন কৃষ্ণ ভারতী প্রমুখ।