× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কিশোরগঞ্জ পৌরসভা

ট্রাক্টর ও নির্মাণসামগ্রীর দখলে অধিকাংশ সড়ক

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:২২ এএম

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:২৮ এএম

কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ইট, বালু ও রড স্তুপ করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ইট, বালু ও রড স্তুপ করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জ শহরের মালামাল পরিবহনে ট্রাক-ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার বাসিন্দারা। ট্রাক্টরে মালামাল ফেলে যাওয়ায় জেলা শহরের অধিকাংশ সড়ক, রাস্তাঘাট ও ফুটপাথ নির্মাণসামগ্রীর দখলে চলে গেছে। সবগুলো সড়কেই এখন ইট, খোয়া, পাথর, বালু, রডের সমাহার। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক অপ্রশস্ত। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০টি সড়কে রাখা আছে নির্মাণসামগ্রী। ফলে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পথ চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরাতেও। এ ছাড়া রোগী, প্রবীণ ও শিশুদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

শহরের খরমপট্রি, গাইটাল, চরশোলাকিয়া, বয়লা, হারুয়া, বত্রিশ, তারাপাশা, নিউটাউনসহ ২৫টি মহল্লার ফুটপাথের ওপর ও সড়কের কিছু অংশজুড়ে রাখা আছে নির্মাণসামগ্রী। কোনো কোনো স্থানে রাস্তার মাঝ পর্যন্ত রাখা। রাস্তার মাঝে ভ্যান ও ঠেলাগাড়িতে ইট-বালু তোলা হচ্ছে। কোনো কোনো মহল্লায় রাস্তার মধ্যে ট্রাক্টর থামিয়ে দাঁড় করিয়েও বালু নামানো হচ্ছে।

একাধিক বাড়ির মালিক জানান, বাড়ি নির্মাণসামগ্রী রাখার বিকল্প জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা রাস্তা ব্যবহার করছেন। স্থানীয়রা জানায়, শ্রমিকদের দিয়ে দ্রুত রাতের মধ্যে মালামাল নিয়ে গেলে সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে। কিন্তু কেউ সচেতনভাবে কাজটি করছে না। 

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ট্রাক-ট্রাক্টর সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচল নিষেধ থাকার পরও লাগামহীন দৌরাত্ম্য থেমে নেই। এসব ট্রাক্টরে নিয়ে আসা নির্মাণসামগ্রী সড়কে ফেলে রাখায় হাঁটাচলায় ভোগান্তি হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। অথচ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে পৌর কর্তৃপক্ষ উদাসীন। তারা দেখেও না দেখার ভান করছে। এলাকার নির্বাচিত কাউন্সিলররা নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন।

তারা আরও বলেন, সড়ক ও রাস্তা থেকে এসব নির্মাণসামগ্রীর দ্রুত সরানো বা অপসারণ করার কথা থাকলেও পৌরসভা তা করছে না। ট্রাক্টর বন্ধ ও নির্মাণসামগ্রী সড়কে না রাখার বিষয়ে পৌরসভার কোনো তৎপরতা নেই। অনেক বাড়ির মালিক, ব্যবসায়ী ফুটপাথ ছাড়িয়ে রাস্তার ওপরেও ইট-বালু স্তূপ করে রেখেছেন। কিশোরগঞ্জের রাস্তাগুলো আবাসিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত। সড়কের এসব অংশে বড় বড় কোচিং সেন্টার, কিন্ডারগার্টেন স্কুলসহ সরকারি ও বেসরকারি অফিস রয়েছে। সব মিলিয়ে মূল শহরসহ আবাসিক এলাকাগুলোতে যানজটও লেগেই থাকে। 

শহরের সরযূবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, সড়কের পাশে ড্রেনের ওপর দিয়ে তারা হেঁটে নিজস্ব গন্তব্যে যায়। কিন্তু ড্রেনের ওপর নির্মাণসামগ্রী থাকায় হাঁটাও সম্ভব হয় না। সারা বছর ধরে কেউ না কেউ বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করতে নির্মাণসামগ্রী রাস্তায় ফেলে রাখে। মানুষের চলাচলের কথাটা অন্তত ঠিকাদার, বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের মাথায় রাখা উচিত বলে তারা মনে করে।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল গণি বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রী সরানোর জন্য বলা হয়। ছোট শহর সবাই চেনাজানা, তাই সব সময় কঠোর হওয়া যায় না। এ বিষয়ে পৌরসভার পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার প্রস্তাব রাখব।’ 

জানতে চাইলে পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘ছোট শহর সবাই চেনা-জানা। তাই মালামাল সরানোর দায়িত্ব কাউন্সিলররা সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা করা হবে। নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষ এ অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে চাইলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা