ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:২৮ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:২০ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় তাপ নিঃসরণ ব্যবস্থার স্টিল-অবকাঠামো। প্রবা ফটো
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় তাপ নিঃসরণ ব্যবস্থার স্টিল-অবকাঠামো স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে স্বয়ংক্রিয় তাপ নিঃসরণ ব্যবস্থা মানুষের হস্তক্ষেপ এবং পাওয়ার সোর্স ছাড়াই নিজ থেকে কাজ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং রূপপুর এনপিপি নির্মাণ প্রকল্পের রাশিয়ান পরিচালক আলেক্সি দেইরি।
তিনি বলেন, মাত্র দুই দিনে ডিফ্লেক্টর নামে এই অবকাঠামো স্থাপন সত্যিই একটি রেকর্ড। পরবর্তী ধাপে ডিফ্লেক্টর সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম এবং স্বয়ংক্রিয় তাপ নিঃসরণ ব্যবস্থার আরেকটি অংশ এয়ারডাক্ট স্থাপন করা হবে। তিনি জানান, ডিফ্লেক্টর হলো স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি একটি সিলিন্ডার আকৃতির কাঠামো, যার ওজন ২১৫ টন, ব্যাস প্রায় সাড়ে ২৫ মিটার। ডিফ্লেক্টর স্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা দুই ধাপে সম্পন্ন হয়। রিয়্যাক্টর ভবনের গম্বুজে ১৩৫ টন এবং ৮০ টনের দুটি কাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য বিচ্যুতি মাত্র ১০ মিমি। ডিফ্লেক্টরের অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃস্থ অংশ দুটি সাড়ে ৬৪ মিটারের বেশি এলিভেশনে বসানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে রিয়্যাক্টর ভবনের উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৮৫ মিটার।
জানা গেছে, দুইজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, পাঁচজন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ওয়েল্ডার এবং ৪২ জন অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ডিফ্লেক্টর স্থাপনের কাজে অংশ নেন। স্বয়ংক্রিয় তাপ নিঃসরণ ব্যবস্থায় ডিফ্লেক্টর একটি অ্যারোডিনামিক কাঠামো যা ভেন্টিলেশন চ্যানেলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করে। পুরো ব্যবস্থাটি প্রাকৃতিক সার্কুলেশন নিয়ম অনুসারে কাজ করে। বায়ুমণ্ডল থেকে বাতাস হিট এক্সচেঞ্জারে যাওয়ার পর উত্তপ্ত হয় এবং এয়ারডাক্টের মাধ্যমে রিয়্যাক্টর ভবনের ডোমের শীর্ষে অবস্থিত আউটলেট হেডারের মধ্য দিয়ে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। ফলে রিয়্যাক্টর কম্পার্টমেন্ট শীতল হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে স্থাপিত হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর। প্রকল্পটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই রিয়্যাক্টরগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করছে বলে রুশ প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত জেনারেল কন্ট্রাক্টরের অধীনে রসাটমের প্রকৌশল শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় গত বছরে মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার কথা থাকলেও সেই পরিকল্পনা পরে নতুন করে সাজানো হয়। রাশিয়ার কারিগরি প্রযুক্তি এবং অর্থ সহায়তায় নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের একটি অনুষ্ঠানে গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতায় চালু হবে ২০২৬ সালে।