× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রোজার আগেই খেজুরের দাম এক লাফে দ্বিগুণ

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:৪২ পিএম

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:১৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আগের বছরের তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় রমজানকে কেন্দ্র করে খেজুরের দাম বাড়ছে। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে মানভেদে খেজুরের দাম কেজিতে বেড়েছে দুই থেকে তিনগুণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি না বাড়লে সামনের দিনগুলোতে ইফতারের অন্যতম খাবার খেজুরের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। 

জানা যায়, শুল্কায়ন নিয়ে কড়াকড়ি আরোপের পর চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খেজুর আমদানি কমেছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে খেজুর আমদানি হয়েছিল ৩০ হাজার ৯১১ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছর একই সময়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন। এই হিসেবে খেজুর আমদানি কমেছে ১৭ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন। যার প্রভাব পড়েছে দামে। 

এ বিষয়ে এরাবিয়ান ডেটসের মালিক শহিদুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন তিনটি কারণে খেজুরের দাম বাড়ছে। প্রথমত, শুল্কায়ন অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। আগে যেই খেজুরের কেজিপ্রতি শুল্কায়ন ছিল ১০ টাকা। এখন মানভেদে ভালো মানের খেজুরে শুল্কায়ন দিতে হয় ২৭৫ টাকা। মাঝারি মানের খেজুরের শুল্কায়ন পরিশোধ করতে হয় ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। একেবারে খারাপ মানের খেজুরে শুল্কায়ন দিতে হয় ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এছাড়া ডলারের দাম বেড়েছে। তাই আমদানিতে খরচও বাড়ছে। মূলত, এসব কারণে বাজারে খেজুরের দাম বাড়ছে। ডলারের দাম বাড়লে সামনে খেজুরের দাম আরও বেড়ে যাবে।’

উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর ৮৪ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ছয় মাস ২০ দিনে আমদানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ৯০ হাজার থেকে এক লাখ মেট্রিক টন। যার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে রমজানে খেজুরের চাহিদা থাকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। অতীতে রমজানকে ঘিরে আগেই চাহিদা অনুযায়ী খেজুর আমদানি করতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবার শুল্কায়ন নিয়ে কড়াকড়ি আরোপের পর খেজুর আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

খেজুর আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে খেজুর আমদানি একেবারেই হয়নি। পাঁচ মাসে খেজুর আমদানি হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৩৬৪ মেট্রিক টন। সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে খেজুর আমদানি বেড়েছে। ওই মাসে খেজুর আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ১৬ মেট্রিক টন। চলতি মাসের গত ২০ দিনে আমদানি হয়েছে ৬১০ মেট্রিক টন। 

খেজুর আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি শুল্কায়ন বেশি হওয়ায় এখন বাজারে খেজুরের দাম বাড়তি। চট্টগ্রামের খেজুরের পাইকারি বাজার ফলমণ্ডিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে গত রমজানের আগে যে আজওয়া খেজুর বিক্রি হতো ৮০০ টাকায়, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকায়। অন্যদিকে মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। মেডজুল খেজুরও একই দামে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। কম দামের জিহাদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যে খেজুর আগে বিক্রি হতো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

প্রসঙ্গত, আগে কম দামের খেজুরের দামেই শুল্কায়ন হতো উন্নতমানের খেজুর। এতে রাজস্ব হারাত সরকার। বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির পর খেজুরের শুল্কায়নে নতুন নিয়ম চালু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। গত বছরের ৩ এপ্রিল চালু করা নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে খেজুরের মানের ওপর ভিত্তি করে শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রিমিয়াম গ্রেড (উন্নতমানের) খেজুর প্রতি কেজি চার ডলার, মিডিয়াম গ্রেডের (মাঝারি মানের) খেজুর প্রতি কেজি দুই ডলার এবং লোয়েস্ট গ্রেড (নিম্নমানের) খেজুর প্রতি কেজি এক ডলার করে শুল্কায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা