মতবিনিময় সভা
কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৩৭ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৪৩ পিএম
চালের বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে মিনিকেট চালের (সরু চাল) প্রধান মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা প্রশাসক। রবিবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মিলমালিকদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিতে শোনা গেছে। পরে মালিকদের বাধার মুখে চালের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, জেলার পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মিলমালিকদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন, চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের কোনো হাত নেই। বাজারে ধানের দাম চড়া হাওয়ায় চালের দাম বেড়ে গেছে। তবে দুই-তিন দিন ধরে বাজার কমতে শুরু করেছে বলে তারা জানান।
এ সময় মিলমালিকদের কেউ কেউ পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও দেন। আনোয়ার হোসেন নামের এক মিলমালিক দাবি করেন, খাজানগর মোকামের কিছু বড় মিলমালিকের গুদামে ধানের মজুদ রয়েছে। কিন্তু তার মতো ছোট ছোট মালিকরা প্রায় প্রতিদিন ধান কিনে চাল তৈরি করেন। এক্ষেত্রে বড় মিলমালিকরা চালের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, ‘বাজারে ধানের সংকট নেই। তাই হঠাৎ কেজিতে ৪-৫ টাকা বৃদ্ধি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’
বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘খাজানগর মোকামের কোনো চালকল মালিক সিন্ডিকেটে জড়িত নেই। উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে নওগাঁ এলাকার কিছু চালকাল মালিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী। তারা হঠাৎ চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
জেলা চালকল মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি আব্দুর সামাদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারেÑ এ আশঙ্কায় থেকে পাইকাররা এখানকার মোকাম থেকে চাল কেনা বন্ধ রেখেছিল। নির্বাচনের পর সব পাইকার একসাথে চাল কেনা শুরু করায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’
পরে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা মোকামে চালের মূল্য নির্ধারণের জন্য সবার মতামত চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেন বলেন, ‘দাম বৃদ্ধির আগে খাজানগর মোকামে মিলগেটে মিনিকেট চালের দাম ছিল ৬০ টাকা কেজি।’ তিনি সেই দাম বলবৎ রাখার প্রস্তাব করেন। এতে চালকল মালিকরা প্রতিবাদ জানান। পরে জেলা প্রশাসক মিলগেটে প্রতি কেজি মিনিকেটের দাম ৬১ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। এতেও রাজি হননি চালকল মালিকরা। মালিকরা জানান ৬২ টাকার নিচে তারা মিনিকেট চাল সরবরাহ করতে পারবেন না।
এমন পরিস্থিতিতে চালের মূল্য নির্ধারণের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়। তবে সভা শেষে জেলা প্রশাসক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দুই-এক দিনের মধ্যেই খাজানগর মোকামে ধান ও চালের মজুদ পরীক্ষা করে দেখতে অভিযান চালানো হবে। এ সময় কোনো মিলমালিকের বিরুদ্ধে মজুদ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’