প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ
আব্দুল মালেক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৪১ পিএম
অদম্য সনিয়া। প্রবা ফটো
প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের পর কৃত্রিম পা পেল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সেই অদম্য সনিয়া। গত ৯ ডিসেম্বর ‘পা ছাড়া অদম্য সনিয়ার ছুটে চলা!’ শিরোনামে প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডিজিটালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরই বিষয়টি নজরে আসে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের।
লেটস ওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট বোরহান সাফি সংবাদটি পড়ার পর সনিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সনিয়ার পরিবারের সম্মতিতে টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের উপ নির্বাহী পরিচালক ডা. মতিউর রহমানের নির্দেশনায় বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। এরপর বগুড়ার ঠেঙ্গামারা টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে লিম্ব প্রকল্পের সমন্বয়ে সনিয়াকে দুটি উন্নত প্রযুক্তির কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়।
এ ছাড়া সংবাদটি প্রকাশের পর সরকারিভাবেও সনিয়াকে দুটি কৃত্রিম পা সংযোজনের আশ্বাস দিয়েছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া। তবে সনিয়া ও তার পরিবার বেসরকারিভাবেই পা সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেন।
জানা গেছে, ৮ বছর বয়সে এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে সনিয়ার দুটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে খুব কষ্টে চলাচল করতে হতো সনিয়াকে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অদম্য সনিয়া পড়াশোনা চালিয়ে যান। বর্তমানে সে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কিন্তু দুই পাহীন সোনিয়াকে মায়ের কোলে চড়ে কলেজে যাতায়াত করতে হতো।
সনিয়া আক্তার উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উজান-চরনওপাড়া গ্রামের কৃষক রইছ উদ্দিনের মেয়ে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সনিয়ার বাবা রইছ উদ্দিন বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর আমার মেয়ের দুটি কৃত্রিম পা লাগানো হয়েছে। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।
সনিয়ার মা শিউলি বেগম বলেন, আমরা হাসপাতালে ১১ দিন ছিলাম। হাসপাতালের লোকজন বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে দুটি কৃত্রিম পা লাগিয়ে দিয়েছে।
সনিয়া আক্তার বলেন, কৃত্রিম দুটি পা দিয়ে পুরোপুরি হাঁটার অভ্যাস করতে ৩ থেকে ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তারা কিছু নিয়মকানুন দিয়েছেন, সেগুলো মেনে চললে আমি নিজে নিজেই হেঁটে কলেজে যেতে পারব।
টিএমএসএস-এর উপ নির্বাহী পরিচালক ডা. মতিউর রহমান বলেন, প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা সনিয়ার বিষয়টি জানতে পারি। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে দুটি কৃত্রিম পা সংযোজন করে দিয়েছি। তবে পা সংযোজনের পর স্বাধীনভাবে হাঁটার জন্য তার ৬ মাস প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। বর্তমানে সে ওয়ার্কিং ফ্রেমের সাহায্যে হাঁটাচলা করতে পারছে। ৬ মাসের পূর্ণাঙ্গ ট্রেনিং শেষে সে নিজে নিজেই হাঁটতে সক্ষম হবে।