যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:১৮ পিএম
মৃত শিশুর বাবা ও সৎ মাকে হেফাজতে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। প্রবা ফটো
যশোরে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে দেড় বছর বয়সী শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুর বাবা ও তার স্ত্রী পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
যশোর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শুভাশিস রায় শিশু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, আয়েশার বাবা পিন্টু মিয়া পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। কাজের জন্য প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যান পিন্টু। এরই সুযোগে গত চারদিন ধরে শিশুটিকে মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করে আসছে তার সৎ মা পারভীন খাতুন। আজ আয়েশাকে মারধর করে তার সৎ মা। এরপর ব্যথায় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিশু আয়েশা। এরপরে শিশুটিকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে আয়েশার সৎ মা পারভীন বলেন, ‘আয়েশা ও তার একটা ভাই আছে। তাদের মা দেড় বছর আগে ছেলে-মেয়ে ফেলে অন্যত্র বিয়ে করে। একবছর আগে পিন্টুর সঙ্গে আমার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দুইটি সন্তানকে আমরা খুবই ভালোবাসতাম। শনিবার অতিরিক্ত শীতে হঠাৎ মাটিতে পড়ে গিয়ে আয়েশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
আয়শার পিতা পিন্টু মিয়া বলেন, ‘আয়েশার মা অন্য পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া করে চলে যাওয়ায় পারভীনকে বিয়ে করি। আজ সকালে কাজের উদ্দেশে তিনি বাসা থেকে বের হই। দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মৃত। কি কারণে, কি হয়েছে; আমি এখনও কিছু জানি না।’
ডা. শুভাশিস রায় বলেন, শনিবার বেলা ১টার দিকে শিশু আয়েশা খাতুনকে তার পরিবারের সদস্যরা জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার মাথা, মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে দ্রুত ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়।’
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) পলাশ বিশ্বাস বলেন, ‘শিশুটিকে মারধরে হত্যার কথা শোনা যাচ্ছে। তার মা ও বাবাকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’