× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কিশোরগঞ্জ-২

জামানত হারালেন আখতারুজ্জামান, ঘাঁটিতেই ভরাডুবি নৌকা প্রার্থীরও

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:১৬ এএম

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:২৬ এএম

কিশোরগঞ্জ-২ আসন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাহহার আকন্দ। ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ-২ আসন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাহহার আকন্দ। ছবি : সংগৃহীত

নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকলেও পাস করব। নির্বাচনী মাঠে এরকম বড় বড় কথা বলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন হারালেন জামানত। অন্যদিকে নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনটিতে ভরাডুবি ঘটেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরও। তবে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন।

দুই উপজেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২ ভোট কাস্টিং হয়েছে। এর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩৩৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার আব্দুল কাহহার আকন্দ পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৩২ ভোট। আর স্বতন্ত্র মেজর (অব.) আখতারুজ্জামার রঞ্জন পেয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৯ ভোট। এ হিসাবে আখতারুজ্জামান জামানত হারিয়েছেন। তার জামানত হারানোর ঘটনায় পুরো জেলায় টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। 

বরাবরই নানা কারণে আলোচনায় থাকা আখতারুজ্জামানকে বিজয়ী করতে ‘উপর মহল’ থেকে ফোন দেওয়া হচ্ছে বলেও নানা বার্তা ছড়ানো হয়েছিল ভোটারদের মধ্যে। এ নিয়ে অভিযোগও দিয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে প্রকাশ্যে নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে আখতারুজ্জামানকে সমর্থন করায় এই বিতর্কে ঘি ঢালে। কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে তৃতীয় হওয়ায় বড় ধাক্কা খায় তার অনুসারীরা।

অপরদিকে আসনটি থেকে বেশিরভাগ সময় নৌকা বিজয় হলেও এবার ভরাডুবি নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। স্থানীয়রা জানান, এই আসনটি বরাবরই নৌকার ঘাঁটি। নূর মোহাম্মদের আগে অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন এ আসনে নৌকার এমপি ছিলেন। তার আগে প্রফেসর আবদুল মান্নান আওয়ামী লীগ থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আবদুল হক, ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিনসহ একাধিক ভোটার জানান, পাকুন্দিয়া আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র কোন্দল-দ্বন্দ্ব ছিল। এলাকা নিয়ন্ত্রণে নূর মোহাম্মদ এবং অ্যাডভোকেট সোহরাব গ্রুপের মধ্যে গত তিন বছরে শতাধিক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক আব্দুল  কাহহার আকন্দ নৌকা মার্কা পেলেও কম সময়ে এসব দ্বন্দ্ব-কলহ মেটানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। কারণ তিনি সরাসরি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাই নির্বাচনে এই আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যায়।  

অপরদিকে সোহরাব উদ্দিন ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তিনি নৌকার মনোনয়নবঞ্চিত হন। তারপরও এলাকা ছাড়েননি। পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তীব্র কোন্দল-দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে এবং দলের মাঠপর্যায়ের কমিটি গঠনের জন্য ২০২১ সালের শেষদিকে তাকে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক বানানো হয়। সেই সুযোগটি আসার পর তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীসহ তৃণমূলের সাথে সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হন। 

সোহরাবউদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি কখনও মারপিট-দ্বন্দ্ব-কলহে বিশ্বাসী নই। মানুষ আমাকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে মার্কা ঈগল হলেও আওয়ামী লীগের একটি অংশ ও সাধারণ মানুষ বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করে। 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মারামারিসহ নানা জঠিলতায় পাকুন্দিয়া আওয়ামী লীগ বিপর্যস্ত ছিল। সোহরাব দলকে অনেকটা গুছিয়ে আনতে পারায় নির্বাচনী মাঠের ফলটি তার ভাগ্যে জুটেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা