নির্বাচনী সহিংসতা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৫০ পিএম
নেত্রকোণায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম সোহেলের ৬টি অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। প্রবা ফটো
ভোটের বাকি আর মাত্র দুদিন। প্রচারের শেষ সময়ে বুধবার (৩ জানুয়ারি)ও বিভিন্ন আসনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আহত হয়েছে অনেকে। এ ছাড়া এসব ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারও হয়েছে।
কক্সবাজার-৩ আসনে নৌকার প্রার্থীর নেতৃত্বে হামলা-গুলি
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মিজান সাঈদের ঈগল প্রতীকের প্রচারে অংশ নেওয়া লোকজনের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। ওই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের নেতৃত্বে কয়েকশ কর্মী এই হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল শামসুউদ্দিন আহমদ প্রিন্সকে মারধর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জোয়ারিয়ানালার মাদ্রাসা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামসুউদ্দিন আহমদ প্রিন্স বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাদ্রাসা গেটে তিনিসহ অন্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল প্রতীকের প্রচার চালাচ্ছিলেন। ওই সময় নৌকার প্রার্থী এমপি কমল কয়েকটি গাড়িতে কয়েকশ কর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এমপি গাড়ি থেকে নেমে লাঠি হাতে এগিয়ে এসে মারধর শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে এমপি অস্ত্র নিয়ে তাকে গুলি করার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তার সামনে এসে দাঁড়ালে তিনটি ফাঁকা গুলি করেন এমপি কমল। একই সঙ্গে এমপির সঙ্গে থাকা লোকজন স্থানীয়দের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত জনতা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ঘটনাস্থলে পুলিশ-বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রিন্স আরও বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসেন। সাদ্দাম তার ওপর হামলার প্রতিবাদ জানালে এমপির লোকজন আবারও তিনটি ফাঁকা গুলি করে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে নৌকার প্রার্থী এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। জড়ো হওয়া লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোণায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৬ নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, নৌকার ২০ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম সোহেলের ছয়টি অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের ২০ কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে সরেজমিন কার্যালয়গুলো ভাঙচুরের সত্যতা পাওয়া যায়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে পূর্বধলা উপজেলার ইছুলিয়া বাজার, শিমুলকান্দি বাজার, কুতিউড়া, বাদে পুটিকা, শ্যামগঞ্জ ও ভবের বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে রাসেল নামে এক কর্মী নৌকার প্রার্থীর ২০ কর্মী-সমর্থকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় মামলা করেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে ১০-১৫টি মোটরসাইকেলে করে গিয়ে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়গুলোর চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
পূর্বধলা থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের বাসভবনের দেয়ালে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রাহমানের বাড়ির সামনে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাতে শহরের স্বরূপনগর এলাকার রুহুল আমিনের বাসভবন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বটতলা হাটে মেয়রের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোখলেছুর রহমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
এদিকে বুধবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুল রেজা ইমনের বাসভবনের সামনে থেকে একটি পরিত্যক্ত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ফরিদগঞ্জে ভোট নিয়ে তর্ক, কেটলির গরম পানি নিক্ষেপ
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে চায়ের দোকানে বসে নির্বাচন নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি এবং কেটলির গরম পানি একে অপরের ওপর ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোহেল রানা ও আওয়ামী লীগ নেতা মামুন গাজী আহত হয়েছেন। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন। বুধবার সকালে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ এলাকার আবুল বাশারের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে এসএম সোহেল রানা ঘটনাটি নৌকা ও ঈগল প্রতীকের নির্বাচন নিয়ে উল্লেখ করলেও মামুন গাজী ব্যক্তিগত বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন।
থানায় অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই ইভা বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ২ মামলা, গ্রেপ্তার ৩
বরিশাল-২ আসনের বানারীপাড়া উপজেলায় ১৬টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি মামলা হয় বলে বানারীপাড়া থানার ওসি মাইনুল ইসলাম জানিয়েছেন। নৌকার সমর্থকের করা মামলায় আসামি ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন সাইজুদ্দিন, মিরাজ ও মন্টু।
ওসি মাইনুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে ফাইয়াজুল হক রাজুর মেয়ে তাহরিন হক একটি এবং প্রতিপক্ষ নৌকার সমর্থক আমিনুল ইসলাম আরেকটি মামলা করেন। তাহরিন হকের মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আমিনুল ইসলামের মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের নৌকার প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, প্রচারে বাধা, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব উদ্দিন শাহিন। বুধবার সকালে জেলা শহরের মাইজদীতে চেয়ারম্যান পার্কের নিজ বাসভবনে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।
তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকরা।