সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২২ ১৩:১৪ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৫১ পিএম
সিলেটে চলছে পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট। ছবি : প্রবা
সিলেটে সব পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট চলছে। সোমবার ভোর ৬টা থেকে পুরো জেলায় এই ধর্মঘট শুরু হয়।
সিলেট বিভাগীয় ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। তবে প্রথমদিনে নগরীতে পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব সেভাবে পড়েনি।
রবিবার রাতে জেলা প্রশাসনের সমঝোতার উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে ধর্মঘট পালনে অনড় অবস্থান নেয় পণ্যবাহী পরিবহনের নেতারা। একইদিন উচ্চ আদালত ও সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা কোয়ারি চালুর দাবি জানাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
সোমবার দুপুরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ট্রাক, পিকআপ পার্কিং করে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। তবে আগের রাতে পণ্যবাহী গাড়িগুলো নগরে প্রবেশ করায় সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। সকালের পরও বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বেশ কিছু গাড়ি এসেছে বলে জানিয়েছেন সুবহাণিঘাটের কাঁচামালের ব্যবসায়ী আতিক হোসেন।
গত ১৭ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দেয় সিলেট বিভাগীয় ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের পরও দাবি আদায় না হলে পুরো সিলেট বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পণ্যবাহী পরিবহন নেতারা।
বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ৮টি পাথর কোয়ারি রয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সিদ্ধান্তে ২০২০ সালের ৮ জুন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো তালিকাভুক্ত ৮টি পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিত করে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
প্রায় ৫ বছর ধরে ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, জাফলং এবং লোভাছড়ায় পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় ১৫ লাখ ব্যবসায়ী-শ্রমিক ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক চরম সংকটে পড়েছেন বলে ধর্মঘট আহ্বানকারীরা দাবি করেছেন। এর আগেও কোয়ারি চালুর দাবিতে পরিবহনসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ধর্মঘট পালন করে; যাতে নানা পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে।
ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির আহমদ জানিয়েছেন, কয়েক দফায় তারা প্রশাসনকে কোয়ারি চালুর জন্য ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি।
তিনি বলেন, কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় পাথর ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিকরাও সংকটে পড়েছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, পাথর উত্তোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর এই কমিটির সদস্যরা সিলেটের কোয়ারিগুলো পরিদর্শনে আসবেন। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখবেন পাথর উত্তোলনের যৌক্তিকতা আছে কি-না।
প্রবা/আরকে/টিই