কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:১১ পিএম
হামলার পর স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আহতরা। প্রবা ফটো
কমলনগরে নৌকা প্রার্থীর কার্যালয়ে ঈগল প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উভয় পক্ষের সাতটি মোটরসাইকেল। ক্ষতি হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যানের একটি মাইক্রো। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণও হয়েছে। যদিও পুলিশ বলেছে গুলি বর্ষণের মতো কিছু ঘটেনি।
সোমবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নোয়াহাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। রাতেই কমলনগর থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ইউএনও সুচিত্র রঞ্জন দাস। পরে আহত উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পিসহ অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন তারা। ওসি তৌহিদুল জানান, ‘কোনো পক্ষই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।’
এদিকে নৌকার অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও গুলির ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের (ঈগল প্রতীক) সমর্থকদের দায়ী করছেন নৌকা প্রতিকের কর্মীরা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নৌকার মিছিলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নৌকার সমর্থক বাবুর গায়ে গরম পানি ঢেলে দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক মো. সুমন। খবরটি আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে নৌকার সমর্থকরা এসে ঈগল প্রতীকের সমর্থক সুমন ও বাবুকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পি, যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ হিরনের নেতৃত্বে ১৫-১৬ টি মোটরসাইকেলে চড়ে লোকজন ঘটনাস্থলে চলে আসে। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নোয়াহাট এলাকার নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। আশপাশের নৌকার সমর্থকরাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এরপর দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নৌকার সমর্থক কমপক্ষে ৯ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০ জন সমর্থক আহত হন।
নৌকা প্রতিকের স্থানীয় প্রতিনিধি জেলা পরিষদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন মোল্লা জানান, ‘সোমবার রাতে নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে ঈগলের সমর্থকরা এক কর্মীকে মারধর করেন। এরপর বাপ্পি ও হিরনের নেতৃত্বে ১৫/২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে ৩০-৩৫ জনের একটি বাহিনী এসে নৌকার কার্যালয়ে হামলা করে এবং কর্মী-সমর্থকদের মারধর করে। এসময় তারা ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে নৌকার পক্ষের ৯ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়।’
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিরন বলেন, ‘সোমবার রাতে কমলনগরের নোয়াহাট এলাকায় চা-দোকানে বসে ঈগল প্রতীকের সমর্থক সুমনসহ অন্যরা ঈগল মার্কা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এসময় গিয়াস উদ্দিনসহ অন্যরা দোকানে গিয়ে সুমনকে মারধর করেন। এরপর অন্যদের সঙ্গে নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে ফিরে আসার পথে সাড়ে ১১টার দিকে নৌকার সমর্থকেরা আমাদের ওপর হামলা করেন। হামলায় আমি এবং আরও ৯ জন আহত হন এবং আমাদের ৭টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।’ ঘটনার পর ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ‘নৌকার মিছিলে না যাওয়ায় গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। তাতে আমার বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু অভিযোগ করে বলেন, একজন উপজেলা চেয়ারম্যান কী করে গভীর রাতে দলবল নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে নৌকা প্রতীকের কার্যালয়ে হামলা ও নেতাকর্মীদের মারধর করে আহত করে? এছাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সরকারি বাসভবনে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দুইপক্ষের মধ্যে সংঘটিত হামলা-সংঘর্ষের ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন। বলেছেন, ‘আমাদের এখন লক্ষ্য একটাই, জোটপ্রাথী তথা নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করা।’