চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:১৫ পিএম
নির্বাচনের আগমুহূর্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পৌঁছেছে ৯টি প্রশিক্ষিত কুকুর। এসব কুকুর বিস্ফোরক ও মাদক তল্লাশির কাজে লাগাবে পুলিশ। গত বুধবার ঢাকা থেকে ৯টি কুকুর চট্টগ্রামে পৌঁছার পর সেগুলোকে নবনির্মিত ভবনে রাখা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর সিএমপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ডগ স্কোয়াডের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়। এরপর মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরিরোজম ইউনিটের তত্ত্বাবধানে ডগ স্কোয়াড পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে বিস্ফোরক ও মাদক উদ্ধারে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ল। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয়তার তাগিদে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ছাড়াও চট্টগ্রাম জেলা বা রেঞ্জ এলাকায় এই ডগ স্কোয়াডের সেবা দিতে পারবে সিএমপি।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যুক্ত হয়েছিল জার্মান শেফার্ড প্রজাতির প্রশিক্ষিত কুকুর। ২০০৪ সালে র্যাবের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরদল। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার প্রায় ২৫ বছর পর রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশ নেদারল্যান্ডস থেকে সংগৃহীত কুকুরদল নিয়ে ডগ স্কোয়াডের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জঙ্গি দমনে বিস্ফোরক এবং পাচারকালে মাদক শনাক্ত করতে কুকুরগুলো বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। যদি প্রয়োজনের তাগিদে এবং উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ এলাকার বাইরে অন্য জেলায় সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অভিযানে যায়, তাহলে কুকুরগুলো সেসব জেলায়ও সেবা দিতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমে যদি কোথাও বিস্ফোরকের উপস্থিতি আছে মর্মে সন্দেহ হয় কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে সাধারণত, রুটিন তল্লাশীর সময় ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।’
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মনসুরাবাদে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের পাশে একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এই ভবনে ১০টি কুকুরের বাসস্থান তৈরি হয়েছে। খাচার একপাশে কুকুর বিশ্রাম নিলে অন্য অংশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালানো যাবে এমন পদ্ধতিতে খাচাগুলো তৈরি হয়েছে। সেখানে কুকুরের গোসলের জন্য আলাদা স্থানও প্রস্তুত করা হয়েছে। নিচতলায় কুকুর থাকবে। দ্বিতীয় তলায় পুলিশ কর্মকর্তারা অফিস করবেন। পাশাপাশি কুকুরগুলোর তদারক, গোসল করানো এবং খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত সদস্যরা বিশ্রাম নিতে পারবেন। এছাড়া কুকুরের চলাফেরার স্বার্থে ভবনের সামনে খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। আবার ঘ্রাণ শুঁকে বিস্ফোরক ও মাদক শণাক্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রাখার সুবিধার্থে বিশেষ স্থানও প্রস্তুত করা হয়েছে।
মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ডগ স্কোয়াডের কার্যক্রম চালুর জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মাদক নিরোধ অভিযান জোরদার, ভিভিআইপি নিরাপত্তা, বিস্ফোরক শণাক্ত, তারকা মানের হোটেলের নিরাপত্তা, স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চলাকালীন নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে ডগ স্কোয়াড চালুর প্রস্তাব করা হয়। কে-৯ নামক এই স্কোয়াড চালুর জন্য পুলিশে সদর দপ্তর সম্মতি দেওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হয়। প্রায় দুই বছর ধরে এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ৯টি কুকুর আসে। ১০টি কুকুর পাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে সংগৃহীত একটি কুকুর মারা গেছে।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বলেন, কুকুরগুলো এখনো ট্রেনিং পর্যায়ে আছে। তাদের পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। খাবারের বরাদ্দও পাওয়া গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কুকুরগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং খাদ্যাভাসের সঙ্গে পরিচিতি হয়ে উঠেছে। একটি কুকুরকে প্রতিদিন এক কেজি মুরগির মাংসা, ৭০০ গ্রাম গরুর মাংস এবং ২৫০ গ্রাম ভাতসহ অন্যান্য খাবার দিতে হবে।
প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো পাচারকালে অস্ত্র শণাক্ত করতে পারবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডগ স্কোয়াডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্টার টেরিরোজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন যে কুকুরগুলো এসেছে, সেগুলো বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্ত করতে বিশেষভাবে পারদর্শী। খুব শিগগির অস্ত্র শণাক্ত করতে পারবে এমন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর যুক্ত হবে স্কোয়াডে।