হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল (নেত্রকোণা)
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:২১ পিএম
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও মেরামত কাজের প্রকল্পের কমিটি গঠন শেষ না করেই মাটি কাটা শুরু করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবোর নীতিমালা অনুযায়ী গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন, প্রাক্কলন তৈরিসহ যাবতীয় কাজ শেষ করে চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু কমিটি গঠন শেষ না করেই ৩-৪টি কমিটিকে অনুমোদন দিয়ে তড়িঘড়ি করে বাঁধে মাটি কাটার কাজ শুরু করে দিয়েছে। কমিটি গঠন ও কাজের শুরুতেই বিলম্ব হওয়ায় যথাসময়ে বাঁধের মেরামত সম্পন্ন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।
গত শুক্রবার ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনারথাল হাওরের একটি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন পাউবোর মহাপরিচালক এসএম শহীদুল ইসলাম। এ সময় পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। একই দিন মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ দর্শী চাকমা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উপজেলার ঘোড়াডোবা নামক হাওরের একটি ফসলরক্ষা বাঁধ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
এদিকে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও এ দুটি উপজেলার ১১টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে পিআইসি গঠন শেষ না করায় আগামী বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকরা উৎণ্ঠায় রয়েছেন। তবে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এবার হাওর থেকে পানি দেরিতে নামায় জরিপ, প্রাক্কলন তৈরিসহ অন্যান্য কাজ যথাসময়ে শেষে করা সম্ভব হয়নি। তাই পিআইসি গঠন কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয সূত্রে জানা গেছে, এবার বোরো মৌসুমে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১১টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও মেরামতে ১২৪টি পিআইসি গঠনের কথা। এর বিপরীতে পাউবো থেকে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মপাশায় ৭টি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতে ৯৬টি প্রকল্পের মধ্যে গতকাল রবিবার পর্যন্ত ৯২টি পিআইসি অনুমোদন দিয়েছে পাউবো। এখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাকি ৪টি কমিটি গঠনের কাজও প্রক্রিয়াধীন জানান উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।
অন্যদিকে মধ্যনগর উপজেলার ৪টি হাওরের বাঁধ মেরামতে ৩২টি পিআইসির বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২টি পিআইসি গঠন করা হয়ছে। অথচ পাউবোর নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জরিপ প্রাক্কলন তৈরিসহ যাবতীয় কাজ শেষ করে সবকটি পিআইসি গঠন সম্পন্ন করার কথা। আর এসব পিআইসি ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করে তা আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা।
প্রকল্পের অধীনে থাকা ডুবাইল হাওরের কৃষক খোকন তালুকদার বলেন, ‘হাওর এলাকার কৃষকদের বছরে একমাত্র বোরো ফসলই সংসার চালানোর অবলম্বন। কিন্তু এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজের কমিটি গঠনে যেভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে, তাতে সময়মতো বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’
ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ইউএনও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘দেরিতে হাওরের পানি নামায় পিআইসি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে শিগগির পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করে পুরোদমে বাঁধের মেরামত শুরু করা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে সব রকম প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ একই কথা বলেন, মধ্যনগর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ইউএনও অতীশ দর্শী চাকমাও।