মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:০২ পিএম
মোরেলগঞ্জে পুটিখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাসুদ আলম হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে সুবিধাভোগীরা। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পুটিখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাসুদ আলম হাওলাদারের বিরুদ্ধে মৎস্যজীবী তালিকায় কার্ড নবায়ন, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ঘর দেওয়ার নাম করে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ঝাড়ু মিছিলসহ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেছেন সুবিধাভোগীরা। তারা ইউপি সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, পুটিখালী গ্রামের বখতিয়ার হাওলাদারের স্ত্রী হিরা আক্তারের মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে ওই ইউপি সদস্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া মৎস্যজীবী কার্ড রিনিউ করার নামে হাফিজুল মোল্লার কাছ থেকে ৭ হাজার, নাছির গাজীর ৪ হাজার, সিদ্দিক শেখের সাড়ে ৪ হাজার, আলতাফ খানের ৮ হাজার, আব্দুল রব মোল্লার ৮ হাজার ৫০০, সাইদুল মোল্লার ৫ হাজার এবং শুকুর মল্লিক থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করে না পেয়ে তালিকা থেকে নাম কেটে দেন। কলেজশিক্ষার্থী মাসুদ রানা মল্লিকের কাছ থেকে হয়রানিমূলক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ১৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশারের নিকট থেকে পারিবারিক মামলায় হয়রানি করে ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন মাসুদ আলম হাওলাদার।
এর বাইরে ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোকছেদ হাওলাদার কাছ থেকে ২ বছর পূর্বে ২৫ হাজার টাকা নেন। ঘর না পেয়ে অসুস্থ হয়ে কিছুদিন পূর্বে মৃত্যু হয়েছে মোকছেদ হাওলাদারের। তার স্ত্রী জাবেদা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঘরও পেলাম না, টাকাও পাচ্ছি না। মেম্বারের নিকট টাকা চাইতে গেলে চোখ রাঙানি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।’
এরই মধ্যে আসলাম মল্লিকসহ ৮ জন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। পরে মাসুদ আলম পর্যায়ক্রমে ৭২ হাজার টাকা ফেরত দেন। এখন টাকা না দিয়ে টালবাহনা করছে বলে অভিযোগ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, ‘মৎস্যজীবীদের তালিকা নবায়ন করার কোনো নির্দেশনা নেই। নবায়ন করার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মাসুদ আলম হাওলাদার বলেন, ‘মৎস্যজীবী তালিকায় পরিষদ থেকে নাম দেওয়ার সুযোগ নেই। অফিস থেকে তালিকা করা হয়। ঘরের বিষয়টি ৫ জনের অভিযোগ ইউএনও স্যারের দপ্তর থেকে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আসলে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।’