চট্টগ্রাম-১১
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৩৯ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:১৫ পিএম
এম এ লতিফ ও জিয়াউল হক সুমন (বাঁয়ে)। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী টানা তিনবারের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ কোটিপতি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনও কোটিপতি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এই দুই কোটিপতিসহ আরও প্রার্থী রয়েছেন। তাই এলাকায় আলোচনা চলছে ‘দুই কোটিপতির লড়াই’ নিয়ে।
হলফনামার তথ্য অনুসারে, কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের চেয়ে এমপি এম এ লতিফের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বেশি। তবে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগ কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের পক্ষ নিয়েছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে টাকা নাকি নেতাকর্মী বড়- সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ভোটাররা। এ আসনে ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৮৪৮।
এম এ লতিফ
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় এমপি লতিফের টাকা দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ৮৬১। আর তার স্ত্রীর নামে টাকা দেখানো হয়েছে ৫২ লাখ ১৯ হাজার ২৩০ টাকা। লতিফের নিজ নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ টাকা আর স্ত্রীর নামে আমানত রয়েছে ৭৮ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৭ টাকা। তবে নিজের নামে ৪৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ৫ হাজার টাকার স্বর্ণাংলকার দেখানো হয়েছে। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে এম এ লতিফের ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৫ টাকা। বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল ইত্যাদি বাবদ রয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা। টিভি, ফ্রিজ ও অন্যান্য সামগ্রী বাবদ এম এ লতিফের নামে ৭৮ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৮০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও এম এ লতিফের নামে ২৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ৩০ হাজার টাকার আসবাব দেখানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি লতিফের নিজের নামে ২ কোটি ৭৫ লাখ ১৪ হাজার ৩২২ টাকার অন্যান্য (ঋণ প্রদান ও গাড়ি ক্রয়ের জন্য অগ্রিম) মূলধন রয়েছে।
হলফনামায় স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে এমপি লতিফের ২ কোটি ৬৩ লাখ ২৯ হাজার ৪০৪ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ও নিজের পৈতৃক বাড়ি ছাড়াও স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৯৬ লাখ ২৯ হাজার ৫০১ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। এ ছাড়া এম এ লতিফ পেশা হিসেবে হলফনামায় ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। নিজে এবং নির্ভরশীলদের পৃথক চারটি খাত (কৃষি খাত; ব্যবসা; শেয়ার-সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক, আমানত; চাকরি/সম্মানীভাতা; পার্টনারশিপসহ অন্যান্য) থেকে বছরে আয় ৭৪ লাখ টাকা। এম এ লতিফের নামে কোনো দায়দেনা নেই। হলফনামায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা-মোকাদ্দমা নেই বলে উল্লেখ করেছেন।
২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম এ লতিফ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এম এ লতিফ আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরোধিতার মুখে পড়েন। তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ অধিকাংশ নেতা লতিফের বিরোধিতায় সরব ছিলেন। এর মধ্যে একবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির অভিযোগে তুমুল বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন এমপি লতিফ। এর বাইরে চট্টগ্রাম চেম্বারকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, দলের ভেতর নিজস্ব বলয় তৈরি করা এবং মূলধারার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্বের কারণে এবারও নানাভাবে আলোচিত-সমালোচিত এম এ লতিফ। এরপরও এই আসনের বাঘা বাঘা ২৭ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এম এ লতিফকে নৌকার টিকিট দেন।
জিয়াউল হক সুমন
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম এ লতিফের মতো ধনসম্পদে ভরা স্বতন্ত্র প্রার্থী চসিকের ৩৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। হলফনামায় তার পেশা ব্যবসা দেখানো হয়েছে। সেই ব্যবসার পৃথক পাঁচটি খাতে (কৃষি; বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকানভাড়া; ব্যবসা; শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত, সম্মানীসহ অন্যান্য) তার বার্ষিক আয় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
জিয়াউল হক সুমনের ব্যাংক ও অন্যান্য খাতে ৪৫ লাখ টাকার দায়দেনা থাকলেও নিজের নামে ৮৭ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৩ টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ লাখ টাকা নগদ দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেখানো হয়েছে নিজের নামে ১৫ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৯ টাকা আর স্ত্রীর নামে ৯৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। নিজের ও স্ত্রীর নামে তিনটি গাড়ি এবং ১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার রয়েছে। এ ছাড়া জিয়াউল হক সুমনের যৌথ মালিকানায় কেনা কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। জিয়াউল হক সুমন শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এইচএসসি। তার নামে কোনো মামলা-মোকদ্দমা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।
মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর জিয়াউল হক সুমনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনভুক্ত চসিকের ১০টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৭ থেকে ৩০ এবং ৩৬ থেকে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১১ আসনে ভোটারসংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার ৮৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭০ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৬ জন ও হিজড়া ভোটার ২ জন। এবার ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটকক্ষ থাকবে ১ হাজার ৬৬টি।