× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম মহানগরীর চার আসন

চার এমপিকে টেক্কা দিতে চান হেভিওয়েট পাঁচ নেতা

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:৫৮ পিএম

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:১৭ পিএম

চট্টগ্রাম মহানগরীর চার আসনের চার এমপিকে টেক্কা দিতে চান হেভিওয়েট পাঁচ নেতা। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম মহানগরীর চার আসনের চার এমপিকে টেক্কা দিতে চান হেভিওয়েট পাঁচ নেতা। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম জেলার সংসদীয় আসন ১৬টি। এর মধ্যে মহানগরীর চারটি আসন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। এবার এই চার আসন ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এগুলোতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন ৯৩ জন। তাদের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা বিবেচনায় এগিয়ে আছেন পাঁচজন হেভিওয়েট নেতা। তারাই মূলত বর্তমান চার সংসদ সদস্যকে টেক্কা দেওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) বর্তমান সংসদ সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের (কোতোয়ালি) সংসদ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের (ডবলমুরিং) সংসদ সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের (বন্দর-পতেঙ্গা) সংসদ সদস্য এম এ লতিফ।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমি সামষ্টিক রাজনীতি করতে শিখেছি, তাই মনোনয়ন পাওয়া না-পাওয়া আমার কাছে মূল্যহীন। আমাদের দল সুবিশাল, অনেক নেতাকর্মীর হাজারো-লাখো প্রত্যাশা। সংসদ সদস্য হই বা না-হই, আমার উচিত হবে চট্টগ্রামের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলমান উন্নয়ন কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য একসঙ্গে কাজ করা।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই চার সংসদ সদস্যের আসনে ভাগ বসাতে চান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পাঁচজন হেভিওয়েট নেতা। তারা হলেনÑ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহানগরের সহ-সভাপতি ও চসিকের সাবেক প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন, মহানগরের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, মহানগরের সহ-সভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ এবং মহানগরের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। এর মধ্যে আ জ ম নাছির তিনটি আসনে (চট্টগ্রাম-৯, ১০ ও ১১ আসন) এবং খোরশেদ আলম সুজন দুটি আসনে (চট্টগ্রাম ১০ ও ১১) মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এই চার আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যদের টেক্কা দিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে আনতে নানাভাবে তদবির করাসহ ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ এই পাঁচ নেতা। নিজেদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে নানাভাবে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

তিনটি আসন থেকে মনোনয়ন নেওয়া ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমার চট্টগ্রাম শহরে অবাধ বিচরণ। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি এক টার্ম সিটি করপোরেশনের মেয়রও দায়িত্বও দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম শহরের অলিগলিতে আমার বিচরণ হয়েছে। মহানগরীর যেকোনো একটি আসনে আমাকে থেকে মনোনয়ন দিলে, প্রতিপক্ষ প্রার্থী যেই হোক, আমি অবশ্যই বিজয়ী হব।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এখন আবার চাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। শেষ বয়সে একবার সংসদ সদস্য হতে চাই। আশা করি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় আনবেন। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে প্রায় এক যুগ সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এই সময়কালে আমি চট্টগ্রাম মহানগরীতে সিডিএর মাধ্যমে তিনটি ফ্লাইওভার, ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বায়েজিদ বাইপাস রোড, পতেঙ্গার সৌন্দর্যবর্ধনসহ হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করেছি। সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগ দিলে এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করব।

কোন আসনে কতজন মনোনয়নপ্রত্যাশী

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চসিক আংশিক) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ২৮ জন। তারা হলেনÑ মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবদুল কাদের সুজন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো. আরশেদুল আলম বাচ্চু, প্রয়াত সংসদ সদস্য মাঈনুদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান, নগর আওয়ামী লীগ নেতা মো. দিদারুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য বিজয় কুমার চৌধুরী, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ও সিডিএ বোর্ড সদস্য অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী, ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ এমরান, আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান, সাবেক কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাবেদুল আলম মাসুদ, কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী, মো. বেলাল হোসেন, এসএম কফিল উদ্দিন, কাজী শারমিন সুমি, এসএম নুরুল ইসলাম, নগর যুবলীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু তাহের, আশেক রসুল খান, এম এ সুফিয়ান সিকদার, মো. খোরশেদ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. মনছুর আলম পাপ্পি, এটি এম আলী রিয়াজ খান রক্সি, মো. সাইফুল ইসলাম, এম এ সুফিয়ান সিকদার, কফিল উদ্দিন খান ও শেখ আমেনা খাতুন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী ছাড়াও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৭ জন। তারা হলেনÑ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, নগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কাউন্সিলর মো. শহিদুল আলম, মশিউর রহমান চৌধুরী, মুহম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মো. দিদারুল আলম, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মো. জালাল উদ্দিন, আমিনুল হক, শাহজাদা মোহাম্মদ ফৌজল মুকিম খান, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. শফর আলী, মো. রাশেদুল হাসান।

চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু ছাড়াও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ২১ জন। তারা হলেনÑ সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক চসিক প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম এ আজিজের ছেলে সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, সৈয়দ মাহমুদুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ, চসিক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা কেবিএম শাহজাহান, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মো. শফর আলী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফয়সাল আমীন, মো. আসলাম হোসেন, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, মো. ছালামত আলী, মো. সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, এই আসনের প্রয়াত সাংসদ ডা. আফছারুল আমিনের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. এরশাদুল আমিন ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমদ।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ২৭ জন। তারা হলেনÑ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, রোটারিয়ান হাজী মো. ইলিয়াছ, মশিউর রহমান চৌধুরী, শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, মোহাম্মদ এনামুল হক, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর আহম্মদ, কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুর, দেবাশীষ পাল, রেখা আলম চৌধুরী, মো. জাবেদ ইকবাল, সওগাতুল আনোয়ার খান, ইকবাল আলী, হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. আমিনুল হক বাবু, ইমরান ফাহিম নূর, সায়রা বানু রুশ্নি, মো. শফর আলী, মো. রাশেদুল হাসান, মাহবুবুর রহমান, নওশেদ সারওয়ার, চসিক কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী, আকবর হোসেন ও এম এনামুল হক চৌধুরী।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা