প্রবা প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:০৯ পিএম
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শের-ই-বাংলার নাতি একে ফাইয়াজুল হক রাজু। সংগৃহীত ছবি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন শের-ই-বাংলার নাতি একে ফাইয়াজুল হক রাজু।
তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানন্ত্রী শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হকের নাতি ও বরিশাল-২ আসন থেকে চারবারের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী একে ফায়জুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নানা দ্বিধা বিভক্তির মধ্যে ফাইয়াজুল হক রাজুকে ঘিরে তৃণমূল আওয়ামী লীগে আশার সঞ্চার হয়েছে। দলীয় মোড়কের বাইরেও রাজুর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।
শুধু তাই নয়, দাদা-বাবার পরিচয়ের বাইরেও নিজের একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হতে চান তিনি।
একে ফাইয়াজুল হক রাজুর আশা, দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগ বিবেচনায় সকলের গ্রহণযোগ্যতা তাকে মনোনয়ন পেতে সহায়তা করবে।
ওই আসনের প্রবীণ ভোটাররা জানান, বঙ্গবন্ধু ও শের-ই-বাংলার মধ্যে যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল তা নিয়ে মানুষ গর্ববোধ করেন। শের-ই-বাংলার লাহোর প্রস্তাব থেকে বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা এই এলাকার জনসাধারণের মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে আছে। এ আসনের সাধারণ মানুষ রাজনীতির এ দুই কিংবদন্তিকে এক অভিন্ন চেতনার বাতিঘর ভাবেন।
পৌর আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ যারা রাজনৈতিক সমীকরণ বা ভৌগলিক কারণে সামনে আসতে পারেন না ভেতরে ভেতরে নির্মোহ রাজনীতির জন্য রাজু ভাইয়ের প্রতি তাদের যে মৌন সমর্থন তৈরি হয়েছে তা অকল্পনীয়। দীর্ঘ সময় তিনি বানারীপাড়া-উজিরপুরের তৃণমূলকে অনেক কিছু দিয়েছেন। কোরাম করেননি, যার ফলে গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। গণমাধ্যমে তার নিয়মিত উপস্থিতি, রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিচক্ষণতাও তৃণমূলকে উজ্জীবিত করে।
একে ফাইয়াজুল হক রাজু বলেন, এ কথা বলা যায় উপমহাদেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জীবন মান উন্নয়ন ও মুক্তি সংগ্রামে আমার পরিবার যুক্ত আছে এক শতাব্দিরও বেশি সময় ধরে। আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত আছি। শের-ই-বাংলার নাতি বলে বিএনপি-জামায়াত ছেড়ে কথা বলিনি। এ জন্য নানা যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে। সেনা সমর্থিত সরকারের চাপও টলাতে পারেনি এক বিন্দু। আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনার সঙ্গে আছি শের-ই-বাংলার আদর্শিক প্রজ্ঞা নিয়ে, আর মননে রেখেছি বঙ্গবন্ধুকে।
দাদা-বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার বাইরেও বানারীপাড়া-উজিরপুরের তৃণমূল আওয়ামী লীগে তার স্বচ্ছ রাজনীতি সমাদৃত। শের-ই-বাংলার নাতির প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের দলমত নির্বিশেষে এক ভিন্ন আবেগ আছে বলে জানান রাজু।
তিনি বলেন, এ জন্য কিছুটা বাড়তি চাপও থাকে। আমার কোনো কোরাম নেই, ফোরাম নেই। এ অঞ্চলের প্রতিটি ইঞ্চি কনার সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক।
ফাইয়াজুল হক রাজুর বনানীর অফিসে উজিরপুর থেকে আসা সজীব নামে এক যুবলীগ কর্মী বলেন, রাজু ভাইকে আমাদের থেকে দূরে রাখা আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য ক্ষতি। আমরা তৃণমূল শের-ই-বাংলার প্রজন্মকেই নেতা হিসেবে চাই।
নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজু বলেন, আমার দীর্ঘ দিনের যে রাজনৈতিক যাত্রা তা সাংবিধানিক কাঠামোতে গেলে তখনই কেবল সবটুকু দিয়ে মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব। আমার প্রতি মানুষের এতো এতো প্রত্যাশা থেকে পালানোর পথ নেই। আমার ও আমার অঞ্চলের মানুষের বিশ্বাস, দল এবার তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিবে।
বরিশাল-২ আসনে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে ২০ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২০১৪ ও ২০১৮ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ফাইয়াজুল হক রাজুর নাম শোনা গিয়েছিল।
ফাইয়াজুল হক রাজু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। দলের দুঃসময় ওয়ান ইলেভেনে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পাশে থেকে রাজনীতি করেছি। বিএনপি-জামায়াতের আমলে রাজপথে সক্রিয় আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টাও করিনি।
বর্তমানে উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, দল মনোনয়ন দিলে দুই উপজেলায় কোনো বিভেদ থাকবে না। দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে দল পরিচালনা করা হবে। দলীয় হাইকমান্ডের বাইরে কোনো কর্যক্রম হবে না।