× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্রামে গ্রামে নবান্ন উৎসব

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:১৪ পিএম

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১১:৪৯ এএম

জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উপলক্ষে মাছের মেলা। প্রবা ফটো

জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উপলক্ষে মাছের মেলা। প্রবা ফটো

কথায় আছে, বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এর অন্যতম হলো নবান্ন উৎসব। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসব। নবান্ন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হয়েছে মাছের মেলা।

বস্তুত নবান্ন শুরু হয় মাটি ও গোবর গুলিয়ে উঠান ও ধানের গোলা লেপে পরিপাটি করার মধ্য দিয়ে। এই উঠানে নতুন ধান মাড়াই করে রোদে শুকানো হয়। তারপর আতপ চাল ঢেঁকিতে বা জাঁতায় গুঁড়ো করে সন্ধ্যায় শুরু হয় পিঠা-পায়েস তৈরি। বৈঠক, বারান্দা বা উঠানের এক কোণে চলে জারিসারি গান। রান্নাঘর থেকে ততক্ষণে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে পিঠা-পায়েসের ঘ্রাণ। অগ্রহায়ণ মাস এলেই ফুলবাড়ীর প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষকের ঘরে ঘরে দেখা যায় এমন চিত্র।

সরেজমিনে ফুলবাড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ধান কাটার উৎসব চলছে। কৃষাণ-কৃষাণির কেউই বসে নেই। এলুয়াড়ী ইউনিয়নের জুঝারপুর দাসপাড়া গ্রামের গৃহবধূ মিনা রানী রায় ঢেঁকিতে নতুন ধানের চাল থেকে গুঁড়ো করছিলেন। জিজ্ঞেস করতেই বলেন, নতুন ধানের নতুন চাল। পিঠা তৈরি হবে। আত্মীয়স্বজন আসবেন। আলাদীপুর গ্রামের কৃষক বুদু মিয়াও বলেন একই কথা। ফুলবাড়ী পৌর এলাকার কাটাবাড়ী গ্রামের কালীকান্ত রায় ও কমলেশ রায় বলেন, নবান্নে তারা এলাকাবাসী একত্র হয়ে বড় আকারে উৎসব পালন করেন। আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

শহর থেকে গিয়ে গ্রামের এই নবান্ন উৎসবে অংশ নিয়েছেন সান্ত্বনা রানী রায়। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর বাচ্চাদের নিয়ে গ্রামে আসি নবান্ন উৎসব করতে। এটি আমাদের ঐতিহ্য। খুব ভালো লাগে। মেয়েজামাইসহ অন্য আত্মীয়স্বজনে বাড়িঘর মুখর হয়ে ওঠে।

উপজেলার প্রবীণ শিক্ষক নাজিম উদ্দীন মণ্ডল বলেন, নবান্ন উৎসব শুধু কৃষক পরিবারে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিটি ঘরেই নবান্ন উৎসব হতো একসময়। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নবান্ন উৎসব উদযাপন করত। এখন আর উপজেলার সংগঠনগুলো এ উৎসব করে না। তবে কৃষক পরিবারগুলো চিরাচরিত নিয়মে উৎসবমুখর পরিবেশে নবান্ন উৎসব উদযাপন করে এখনও।

নবান্ন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলী বাজারে মাছের মেলা হয়েছে। তিনশ বছরের পুরোনো এই মেলার মূল আকর্ষণ বড় বড় মাছ। শনিবার ১ অগ্রহায়ণ সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় করেন। 

মেলায় এক দিনে কয়েক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। নবান্ন ঘিরে উথলী, রথবাড়ী, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদুল্লাপুর, বেড়াবালা, আকনপাড়া, গরীবপুর, দেবীপুর, গুজিয়া, মেদেনীপাড়া, বাকশন, গণেশপুর, রহবল শিবগঞ্জসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে রয়েছে নানা আয়োজন। প্রতিটি বাড়িতেই মেয়েজামাইসহ আত্মীয়স্বজনদের আগে থেকেই দাওয়াত দেওয়া হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে তারা নতুন ধানে নবান্ন উৎসব করেন। একই রকম মেলা বসেছিল জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে। শতাধিক জেলে দেড় কেজি থেকে শুরু করে ১৫ কেজি ওজনের বাগাড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, ব্রিগেড কার্প, ব্লাড কার্পসহ নানা রকমের মাছের পসরা সাজান।

নবান্ন শস্যভিত্তিক একটি লোকউৎসব। কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় প্রধান শস্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে যেকোনো ঋতুতে এ উৎসব পালিত হয়ে থাকে। অধিক শস্যপ্রাপ্তি, বৃষ্টি, সন্তান ও পশুসম্পদ কামনা এ উৎসব প্রচলনের প্রধান কারণ। বাংলাদেশে নবান্ন উৎসব পালন করত প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়। হেমন্তে আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ কিংবা পৌষ মাসে গৃহস্থরা এ উৎসব পালন করত। উৎসবের প্রধান অঙ্গ ছিল নতুন চালে পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ করা। পরে দেবতা, অগ্নি, কাক, ব্রাহ্মণ ও আত্মীয়স্বজনদের নিবেদন করে গৃহকর্তা ও তার পরিবারবর্গ নতুন গুড়সহ নতুন অন্ন গ্রহণ করতেন। এ উপলক্ষে বাড়ির প্রাঙ্গণে আলপনা আঁকা হতো। পিঠা-পায়েসের আদান-প্রদান এবং আত্মীয়স্বজনের আগমনে পল্লীর প্রতিটি গৃহের পরিবেশ হয়ে উঠত মধুময়। সর্বত্র গুঁড়ি কোটার শব্দ, শাঁখের শব্দ ইত্যাদিতে গ্রামাঞ্চল হয়ে উঠত প্রাণবন্ত। পাড়ায়-পাড়ায়, বাড়িতে-বাড়িতে বসত কীর্তন, পালাগান ও জারিগানের আসর। তরুণরা মুখোশ পরে দলে দলে রাতভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে নাচগান করত। কৃষকরা নতুন ধান বিক্রি করে নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ কিনত। বর্তমানে সেসবের অনেক কিছুই লোপ পেয়েছে। এখন সংক্ষিপ্তভাবে কেউ কেউ এ উৎসব পালন করে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বগুড়া অফিস, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) ও জয়পুরহাট প্রতিবেদক]

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা