ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ২০:২২ পিএম
ফেনীর সোনাগাজীতে হোসনে আরা বেগম নামে এক নারীর বয়স্ক ভাতা ৩০ মাস ধরে পাচ্ছেন ফাতেমা খাতুন নামে আরেক নারী। ২০২১ সালের মার্চ থেকে দীর্ঘ ৩০ মাস পর্যন্ত এ ঘটনা চলমান থাকলেও বিষয়টি সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কারও দৃষ্টিতে পড়েনি। সম্প্রতি হোসনে আরা বেগম সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট সাহায্যের আবেদন নিয়ে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সোনাগাজী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের চূড়ান্ত তালিকায় সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চরখোয়াজ গ্রামের তুজ্জার হুতের বাড়ির হোসনে আরা বেগমের নাম ওঠে। চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়ায় সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বয়স্ক ভাতা তার জন্য বরাদ্দ হয়। সেই থেকে একটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে সরকারি বয়স্ক ভাতা চলে যাচ্ছে। কিন্তু বৃদ্ধা হোসনে আরা বেগম জানেনই না তার নামে সরকার বয়স্ক ভাতা দিয়ে আসছে। হোসনে আরা অভাব অনটনে ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি আর্থিক সহযোগিতার জন্য সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটনের কার্যালয়ে আসেন। চেয়ারম্যান লিপটন তাকে বয়স্ক ভাতার জন্য সুপারিশ করে সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠান। পরে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তাকে জানানো হয় ২০২১ সাল থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হোসনে আরা বেগম সরকারিভাবে প্রদানকৃত বয়স্ক ভাতা সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হোসনে আরা বেগমের নামে সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়া মোবাইল নাম্বারটি তার নয়। এটি পার্শ্ববর্তী মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পালগিরী গ্রামের সফর আলী মাঝি বাড়ির ফাতেমা খাতুনের মোবাইল নাম্বার।
এ বিষয়ে ভাতা গ্রহণকারী মোবাইলে কল দিলে ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার এ নাম্বারে কোনো টাকা আসে না। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’
তবে সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যসূত্রে জানা যায়, ফাতেমা খাতুনের কাছে থাকা ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারেই বিগত ৩০ মাস ধরে হোসনে আরা বেগমের বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়মিত যাচ্ছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারেক আহম্মদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ভাতা গ্রহণকারীদের মোবাইল নাম্বার ডেটা এন্ট্রি করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রেরিত তালিকায় হয়তো ওই নারীর মোবাইল নাম্বার ভুল পাঠানো হয়েছে। যার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।’
সোনাগাজী সদর ইউপি চেয়ারম্যান উম্মে রুমা ও মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জমান বাবু একই সুরে বলেন, ‘এটা পরিষদের ভুল নয়, বরং সমাজসেবা অফিসের ভুল। কিছুদিন আগে সব ভাতাভোগীর লাইভ ভেরিফিকেশন করেছে সমাজসেবা দপ্তর। কিন্তু এমন গুরুতর অনিয়ম তাদের নজরে আসেনি। এর দায়ভার পরিষদ কেন নেবে?’
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, একজনের ভাতা দীর্ঘদিন পর্যন্ত অন্যজনে ভোগ করার বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।