অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১০:০০ এএম
কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাশে থেকেও বছরের পর বছর অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে কলাবুনিয়াবাসীকে। প্রবা ফটো
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা আলোকিত করছে। অথচ কেন্দ্র থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে কলাবুনিয়া পাড়াবাসী রয়েছে অন্ধকারে। তারা বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎসেবা থেকে বঞ্চিত। এ যেন বাতির নিচে অন্ধকার।
উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবুনিয়া মারমাপাড়া। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এলাকার পাশের এ গ্রামটির একপাশে কর্ণফুলী নদী, আর অন্যপাশে সবুজ পাহাড়। অনিন্দ্য সুন্দর গ্রামটিতে প্রায় ৩৫ মারমা পরিবারের বাস। কিন্তু গ্রামটিতে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। সৌরবিদ্যুৎ তাদের চাহিদা যৎসামান্য মেটায়।
কথা হয় ওই এলাকার প্রবীণ পাইমং মারমা ও থোয়াইসাপ্রু মারমার সঙ্গে। তারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘পাড়া থেকে মাত্র ১০ মিনিট বোটযোগে পাড়ি দিলে দেখা মিলবে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। অথচ আমরা বিদ্যুৎসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি বছরের পর বছর।’ তারা গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
কারবারি (পাড়াপ্রধান) অংলাচিং মারমা বলেন, ‘গ্রাম থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে চিৎমরম আগাপাড়াসংলগ্ন লঙ্কামুখ পাড়ায় বিদ্যুতের খুঁটি আছে। এই লঙ্কামুখ পাড়া থেকে আমাদের গ্রামে সংযোগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি, যেন এই গ্রামকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করা হয়।’
চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওয়েশ্লিমং চৌধুরী বলেন, ‘কলাবুনিয়াবাসী বিদ্যুৎসেবা থেকে বঞ্চিত। আমরা দ্রুত এই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
জানতে চাইলে রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রকল্প নেই, তবে অচিরেই প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজের মাধ্যমে ওই এলাকাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’