রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:০৯ পিএম
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা তালুকদার। ছবি : সংগৃহীত
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা তালুকদার রবিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পরিবার সূত্র জানায়, জিনাতুন নেসার হৃদযন্ত্রে সমস্যা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
জিনাতুন নেসা তালুকদার কলেজ জীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিনি ৬ দফা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৭ সালে তিনি নওহাটা ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
জিনাতুন নেসা ৯ জুলাই ১৯৪৭ সালে রাজশাহীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা পারভেজ আলী মিয়া ও মাতা জহুরা খাতুন। তার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহিল বাকী তালুকদার রাজশাহী জজ কোর্টের আইনজীবী এবং রাজশাহী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জননী।
জিনাতুন নেসা মুক্তিযোদ্ধা মামার সঙ্গে ১৯৭১ সালের ৩০ মে ভারতে যান। সেখানে বহরমপুর হাসপাতালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। পরে বহরমপুর গোরাবাজার থেকে ৭ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব-সেক্টরের প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের সক্রিয় সহযোগিতা করেন। আগস্টে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে কলকাতায় নারী মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প ‘গোবরা ক্যাম্পে’ প্রশিক্ষণ নেন। পরে শিয়ালদাহ রেলওয়ে হসপিটালে নার্সিং ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাদানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
জিনাতুন নেসা ১৯৬৬ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদের মহিলা আসন ৬ থেকে সংসদ সদস্য মনোনীত হন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
জিনাতুন নেসার মৃত্যুতে রবিবার শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।