বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৮:২৪ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৫৯ পিএম
বগুড়া বিসিক শিল্পনগরীর একটি কলকারখানা। ছবি : প্রবা
‘আগে শুধু সপ্তাহে এক দিন শুক্রবারই আমাদের কারখানা বন্ধ থাকত। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এখন আরও এক দিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এভাবে দুই দিন বন্ধ রাখার কারণে পণ্যের উৎপাদন কমলেও শ্রমিকদের মজুরি ঠিকই দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের লোকসানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।’ বলছিলেন বগুড়া বিসিক শিল্পনগরীর রিয়েল মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মো. বাচ্চু শেখ।
বুধবার সকালে নিজের প্রতিষ্ঠানে বসে তিনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আজ এখনও বিদ্যুৎ যায়নি। তবে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।’
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী এখন শুক্রবারের পাশাপাশি মঙ্গলবারও কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় বিসিক শিল্পনগরীতে ৯৪টি ছোটবড় শিল্প-কলকারখানা রয়েছে। ১২টি প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব জেনারেটর থাকলেও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেনারেটর চালু করে না। ফলে অধিকাংশ সময় বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ৯০ শতাংশ কলকারখানাই বন্ধ থাকে।
বিসিক শিল্পনগরীর গুঞ্জন মেটালের ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ রায় জানান, তাদের নিজস্ব জেনারেটর আছে। কিন্তু সেই জেনারেটর চালাতে গেলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। যে কারণে জরুরি না হলে লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালু করা হয় না।
বগুড়া জেলা মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক জানান, গত দুদিন হলো বিদ্যুতের লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। তবে তারপরও শহরের শাপলা মার্কেট এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। সেখানে তাদের সমিতিভুক্ত অন্তত ১৫০টি ছাপাখানা রয়েছে। ওই মার্কেটে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় গড়ে ৩ ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যদি সকাল ১০টার আগে আর রাত ৮টার পরে লোডশেডিং করা হতো, তাহলে আমরা কিছুটা হলেও উপকৃত হতাম।’
বিদ্যুতের সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বগুড়া সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান জানান, বগুড়া শহরসহ আশপাশের এলাকার জন্য প্রতিদিন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। গত মাস পর্যন্ত সমস্যা থাকলেও এখন আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি। ফলে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া লোডশেডিং করতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, মূলত ৪ অক্টোবর সৃষ্ট ব্লাক আউটের পর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ যাচ্ছে না। ফলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি।
প্রবা/এফএস/এমজে