চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:১৫ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:০৬ পিএম
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে শোকসভায় বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের লালদিঘীর পাড়ে পাগল নাচলেও বিএনপির সমাবেশের সমান মানুষ হয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব চট্টগ্রামে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রোডমার্চ শেষে বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে যে মানুষ হয়েছে, চট্টগ্রামের লালদিঘীর পাড়ে অনেক সময় পাগল নাচে, তখনও এর কাছাকাছি মানুষ হয়। সুতরাং তাদের কর্মসূচিতে লোক সমাগম সেভাবে হয়নি এবং তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আশা করেছিল বিদেশিরা তাদের কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, সেই আশাও বুমেরাং হয়েছে।’
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে একুশে পত্রিকার সদ্যপ্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির আল্টিমেটাম প্রশ্নে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ’এ রকম আল্টিমেটাম তো বিএনপি গত ১৩-১৪ বছরে বহুবার দিয়েছে। গত ডিসেম্বরেও তাদের আল্টিমেটাম ছিল। তারপর খালেদা জিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশ পাঠানোর আল্টিমেটামও ছিল। এখন ১৮ তারিখ আবার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এই বছরের ১৮ তারিখ নাকি আগামী বছরের ১৮ তারিখ, নাকি তারও পরের বছরের ১৮ তারিখ সেটিও অনেকে প্রশ্ন রেখেছে। বিএনপির আল্টিমেটাম ফাঁকা বুলি ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়।’
বিএনপি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে দেশের গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ’যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং কেউ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালালে দেশের মানুষ যেমন প্রতিহত করবে, একইভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া কখনও বিদেশিরাও সমর্থন করে না। তা ছাড়া বিএনপি মহাসচিব বলেছেন শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না। এতেই প্রমাণিত হয় তারা নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। কারণ তাদের কর্মসূচি ও সমাবেশগুলোতে মানুষ হচ্ছে না। ফলে তারা বুঝতে পেরেছে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা নেই। তাই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটছে তারা।’
তিনি আরও বলেন, ’আপনারা দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে কীভাবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও জো বাইডেনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতার শুভেচ্ছা বিনিময় দেখে বিএনপি হতাশ হয়ে পড়েছে। অনেক হাঁকডাক করে বিএনপি একটা রোডমার্চ করেছে, সেখানে আশানুরূপ মানুষ হয় নাই। আমি দেখতে পেলাম গতকাল তারা কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে প্রচণ্ড যানজট তৈরি করা ছাড়া লোকসমাগম করতে পারেনি।’
এর আগে শোকসভায় একুশে পত্রিকার প্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ’আজাদ তালুকদার একজন লড়াকু মানুষ ছিলেন। তিনি যেমন অকুতোভয় সাংবাদিক ছিলেন, একই সঙ্গে একজন লড়াকু মানুষ ছিলেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি কিন্তু ক্ষান্ত হননি, দমে যাননি। ক্যানসারের সঙ্গে অবিরত লড়াই করেছেন। তিনি জানতেন ধীরে ধীরে তার জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে আমি যখন হাসপাতালে তাকে দেখতে যাই, তখন তিনি যেভাবে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং মৃত্যুর পর কী করতে হবে দুয়েকটি কথাও আমাকে বলেছেন। একটা মানুষ জানেন, তিনি মৃত্যুপথযাত্রী, এরপরও অবিচল, সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা আমি তার মধ্যে দেখেছি। তার মধ্যে কয়েকটি গুণ ছিল, লড়াকু, অকুতোভয় ও মেধাবী। দেশে মানুষের গড় আয়ু হচ্ছে প্রায় ৭৩ বছর এবং একজন মেধাবী সাংবাদিকের এভাবে অল্প বয়সে চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার।’
আজাদ তালুকদার একজন অকুতোভয় সাংবাদিক ছিলেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ’চট্টগ্রামের অনেক বিষয়ে অনেকের চোখ এড়ালেও তার চোখ এড়ায়নি। অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সঠিক রিপোর্টটি করেছেন, যেটি কেউ সাহস করে করেননি। অসংখ্য পত্রিকার ভিড়ে একটা পত্রিকা দাঁড় করানো খুব সহজ কাজ নয়। আবার সেটি পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া আরও কঠিন কাজ। কিন্তু তিনি নিজে একা লড়াই করে কোনো বড় গ্রুপের কাছে বিক্রি না হয়ে একুশে পত্রিকা দাঁড় করিয়েছেন।’
একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপুর সভাপতিত্বে শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সহসভাপতি চৌধুরী ফরিদ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মহসিন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুবেল খান, সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল সরওয়ার প্রমুখ।