ডব্লিউডিডিএফের জরিপ
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:১১ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:৩৬ পিএম
প্রতিবন্ধী নারীদের উন্নয়নে উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বগুড়ায় মিডিয়া ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। প্রবা ফটো
বগুড়ায় প্রতিবন্ধী নারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশই নিরক্ষর রয়ে গেছে। যারা পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে, তাদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুতে পারে। এরপর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবন্ধী মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে। মাত্র ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এসএসসি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মূলত অভাব এবং মাধ্যমিক কিংবা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত সুবিধা, বিশেষ করে সিঁড়ির বিকল্প র্যাম্প না থাকায় তারা পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছে।
প্রতিবন্ধী নারীদের উন্নয়নে কাজ করা উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনে (ডব্লিউডিডিএফ) এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ায় একটি হোটেলে আয়োজিত মিডিয়া ক্যাম্পেইনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বগুড়ার তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা এলাকায় তারা প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে জরিপ পরিচালনা করেন।
আশরাফুন নাহার মিষ্টি জানান, ১ হাজার ৫৪ জন প্রতিবন্ধীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে তাদের মধ্যে ৪৯৩ জনই নিরক্ষর। ২৬১ জন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ পেলেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে মাত্র ৯৫ জন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে ৭৫ জন, এসএসসি পরীক্ষা দিতে পেরেছে ২৭ জন, এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পেরেছে ১৭ জন। এ ছাড়া মাত্র আটজন স্নাতক এবং তিনজন স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছে।
অভাবের কারণেই মূলত প্রতিবন্ধী মেয়েরা পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু তারপরও প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তির জোরে যারা পড়ালেখায় যুক্ত হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঝরে পড়ছে। কারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য সিঁড়ির বিকল্প হিসেবে র্যাম্প থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেগুলো নেই।
দেশে প্রতিবন্ধী বিশেষত নারী প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, ’পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবমতে বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠীর ৯ শতাংশ প্রতিবন্ধী। তাদের শিক্ষার আলো থেকে দূরে রাখলে কখনও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।’
মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন। এতে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত অন্তত ৩০ জন সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করেন।