× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বড়-ছোট সব প্রকল্পেরই দৌড় পরিকল্পনা পর্যন্ত

মোহন আখন্দ, বগুড়া

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:০৮ পিএম

করতোয়া নদীর দূষণ রোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে যেখানে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে সেখানেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। শনিবার বগুড়া শহরের লালমাটি ঘাট এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

করতোয়া নদীর দূষণ রোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে যেখানে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে সেখানেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। শনিবার বগুড়া শহরের লালমাটি ঘাট এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

‘করতোয়া নদী না বলে এখন ভাগাড় বলাই ভালো। কারণ শহরের ফতেহ আলী ও চাষী বাজারে জবাই করা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতরের নাড়ি-ভুঁড়ি, পালক ও বিষ্টাসহ মৃত পশুপাখি ফেলা হয় ওই নদীতে। কখনও দেখা যায় মরা শূকর পড়ে আছে। বর্ষার কয়েকটি দিন ছাড়া বছরজুড়েই এ নদীতে থাকে না স্রোত। করতোয়ার অবস্থা তাই ভীষণ করুণ। প্রায়ই শুনি, করতোয়া রক্ষায় এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, ও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ হয় না কিছুই।’ 

বলছিলেন বগুড়ায় বসবাসকারী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বজলুল করিম বাহার। শুধু তিনি নন, বগুড়ার আরও সব শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণজন- সবাই উদ্বিগ্ন করতোয়ার এমন অবস্থায়। তারা মনে করে, গতিপথ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৯৮৭ সালে প্রাচীন এই নদীকে হত্যার আয়োজন চূড়ান্ত করে। প্রতিদিনের বাংলাদেশের অনুসন্ধানেও দেখা গেছে, ১৯৮৭ সালে বগুড়ার পাশের জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খুলশি এলাকায় পাউবো একটি স্লুইসগেট বা জলকপাট নির্মাণের পর থেকেই করতোয়া ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। এ অবস্থায় দখলদাররাও তৎপর হয়ে ওঠে এবং করতোয়ার দুই পাড়ের বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা গড়তে শুরু করে। শহরের ভেতরই এমন তৎপরতা বেশি চোখে পড়ে। এভাবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মৃত করতোয়াকে ভাগাড়ও বানিয়ে ফেলা হয়।

২০০৩ সালের প্রথম প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঘটেনি আজও

দখল-দূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিলে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে স্থানীয় নাগরিক সমাজ করতোয়া রক্ষার আন্দোলনে নামে। তাদের আন্দোলনের মুখে পাউবোর উদ্যোগে করতোয়ায় নাব্যতা ফেরাতে ২০০৩ সালে ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এর বাস্তবায়ন ঘটেনি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) মাঠে নামে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে করতোয়া নদীর দখল-দূষণ রোধের পাশাপাশি স্লুইসগেট অপসারণের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে বগুড়ার জেলা প্রশাসক, পাউবো, পরিবেশ অধিদপ্তর, বগুড়া পৌরসভা এবং জাতীয় নদী কমিশনসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়।

তারপরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বেলার পক্ষে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। শুনানির পর আদালত করতোয়া নদীতে সব ধরনের বর্জ্য ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পৌরসভাকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নির্মিত স্লুইসগেটের পরিবেশগত প্রভাব নির্ণয় করে প্রতিবেদন দিতেও পাউবোকে নির্দেশ দেন আদালত। 

আদালতের এ নির্দেশনার পর অবৈধ দখল উচ্ছেদে তৎপর হয় প্রশাসন। সীমানা পরিমাপ শেষে ২০১৯ সালের মার্চে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করতোয়ার দুই পাড়ে ২১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর করতোয়ার জায়গা দখলের অভিযোগে চলতি বছরের মার্চে বেসরকারি সংস্থা টিএমএএসের বিরুদ্ধে মামলাসহ মোটা অঙ্কের জরিমানাও করা হয়। এ সময় পাউবো থেকে টিএমএসএসের দাবি করা জায়গাকে খাস সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

সবার দৃষ্টি পাউবো প্রকল্পের দিকেই

প্রশাসনের তৎপরতায় করতোয়া নদীর দখল আপাতত ঠেকানো গেলেও এর দূষণ কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশ পালনের লক্ষ্যে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নদীর বিভিন্ন স্থানে ‘সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, ওই সাইনবোর্ডের নিচেও ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শহরের লালমাটির ঘাট, দত্তবাড়ি সেতু এবং ফতেহ আলীর পুরাতন সেতু এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি ময়লা-আবর্জনা চোখে পড়ে।

করতোয়ার দখল-দূষণ রোধে স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক এবং বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশার কাছে। এ প্রসঙ্গে তারা প্রত্যেকেই জানালেন, পাউবোর নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেই করতোয়া নদীর দখল-দূষণ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দূর হয়ে যাবে।

বড়-ছোট কোনো প্রকল্পেই গতি নেই

করতোয়া নদীর নাব্য ফেরাতে ২০১৯ সালে ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া জেলা সীমানায় করতোয়ার ১২৩ কিলোমিটার অংশের পাশাপাশি ইছামতীর ৭৩ কিলোমিটার এবং গজারিয়া নদীরও প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশ পুনরায় খননের প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রকল্পের অধীনে শহরের উত্তরে মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত করতোয়ার দুই পাশে ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কথাও বলা হয়। 

তবে অত্যধিক ব্যয়ের কারণে বড় ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরি হতে পারে মনে করে ২০২১ সালে বগুড়া শহর এবং সংলগ্ন ২০ কিলোমিটার এলাকা (উত্তরে টিএমএসসের মমইন ইকোপার্ক থেকে দক্ষিণে বনানীর ভাটি পর্যন্ত) জুড়ে করতোয়া পুনঃখনন এবং পাশের সুবিল খাল সংস্কারের জন্য মাত্র ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। বাস্তবতা হলো বড় প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা কমিশনেই আটকে আছে। আর ছোট প্রকল্পটিও প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে। 

প্রকল্পটির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে পাউবোর বগুড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, ছোট প্রকল্পটি নিয়ে এ মাসেই পরিকল্পনা কমিশনে সভা রয়েছে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা