× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইজারার শর্ত ভেঙে বালু উত্তোলন, হুমকিতে গ্রাম

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৩৫ পিএম

মেঘনা নদীতে বালুমহালে ইজারার শর্ত ভেঙে দিনরাত তোলা হয় বালু। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের কেদারখোলা। প্রবা ফটো

মেঘনা নদীতে বালুমহালে ইজারার শর্ত ভেঙে দিনরাত তোলা হয় বালু। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের কেদারখোলা। প্রবা ফটো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের কেদারখোলা মৌজায় মেঘনা নদীতে বালুমহালে ইজারার শর্ত ভেঙে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ইজারাদারের লোকজন নদী থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগে সত্যতা মিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা জাহান অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত সীমার বাইরে বালু তোলার অপরাধে পাঁচটি খননযন্ত্র জব্দ করেন। 

জানা গেছে, নবীনগর-ভৈরব নৌপথের মেঘনা নদীতে কেদারখোলা মৌজার ২০ একর জায়গা থেকে বালু তোলার (বালুমহাল) অনুমতি পায় মো. বরকত উল্লাহর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাহানারা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাদারের লোকজন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ১৫-১৬টি খননযন্ত্র দিয়ে নির্ধারিত সীমানার বাইরে দাসকান্দি ও বীরগাঁও নামে আরও দুটি মৌজা থেকে বালু উত্তোলন করছে। শুধু তাই নয় তারা রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করছে। ইজারাদারের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জোটবদ্ধ থাকায় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। 

বালু তোলার প্রতিকার চেয়ে বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. সালেক আহমেদ সরজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে উল্টো ইজারাদারের লোকজনের পক্ষ নেওয়ায় স্থানীয় জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন। পরে তিনি বীরগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কবির আহমেদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ‘সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুহুল আমীন ও নবীনগরের ইউএনও পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বীরগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কবির আহমেদ বলেন, ‘সরকারিভাবে শুধু কেদারখোলা মৌজায় বালু তোলার ইজারা পেয়েছে। কিন্তু ইজারাদারের লোকজন নির্ধারিত সীমানার বাইরে আরও দুটি বড় বড় মৌজা থেকে প্রতিদিন দিনে-রাতে সমানতালে লাখ লাখ টাকার বালু তুলছে। এতে তীরবর্তী গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ টাকার অধিক বালু উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ কাজে এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় আমিসহ অনেকেই তহশিলদারের মিথ্যা মামলায় আসামি হয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইজারাদার বরকত উল্লাহ সাগরের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন নিজেকে ইজারাদারের ‘পার্টনার’ দাবি করে বলেন, ‘এক বছর মেয়াদে প্রায় তিন কোটি টাকা দিয়ে বালুমহালটি ইজারা আনা হয়েছে। সরকারের সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সীমানা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমদের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ফরহাদ তানভীর বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এডিসি স্যারসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বালু তোলায় কিছু অনিয়ম পেয়েছি। ইজারাদারকে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে নিয়মনীতি মেনে বালু তুলতে হবে। রাতের আঁধারে, নির্ধারিত সীমানার বাইরে এবং ১০টি খননযন্ত্রের বেশি নদীতে পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কেও অবহিত করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা