রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ২০:৩৫ পিএম
যানজটে আটকে আছে যানবাহন। ছবি : প্রবা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকে পড়া যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
মহাসড়কের ভুলতা এলাকা থেকে যাত্রামুড়ায় সোমবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
দেশের অনত্যম ব্যস্ত এই মহাসড়ক দিয়ে সিলেট, ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলার শত শত মালবাহী ট্রাক, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল করে। অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাথ দখল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, নিয়ম ভঙ্গ করে চালকদের উল্টোপথে গাড়ি চলাচল, সড়ক প্রশ্বস্ত কম হওয়া, লক্কড়-ঝক্কর গাড়ি হঠাৎ সড়কে বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এই রুটে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে।
যানজটের বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি নবীর হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কর্ণগোপ এসিএস টেক্সটাইল মিলের সামনে একটি গাড়ি নষ্ট হয়ে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি রেকার দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে। সন্ধ্যার পর যানজটমুক্ত হয়েছে মহাসড়ক।
সরেজমিন দেখা গেছে, রূপসী বাসস্ট্যান্ড দিয়ে রূপসী-কাঞ্চন সড়কে সারি সারি ট্রাক ঢুকছে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত অন্য যানবাহনগুলো আটকে রয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় এখানে পুলিশের সংখ্যা একেবারেই কম। অল্প কিছু পুলিশ সদস্য দিয়ে যানজট নিরসনের কাজ করানো হয়।
যানজটে আটকে পড়া রীনা ইসলাম জানান, তার মেয়ে যাত্রামুড়া এখলাস উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে লেখাপড়া করে। বেলা ৩টার দিকে তার মেয়েসহ শিক্ষার্থীরা স্কুল বাসে উঠেছে ভুলতায় নিজ নিজ বাড়িতে আসার জন্য। বিকাল সাড়ে ৫টা বেজে গেলেও যানজটের কারণে তারা বাড়ি ফিরতে পারেনি। প্রায় সময় আবার তারা যানজটের কবলে পড়ে সকালের দিকে সঠিক সময় স্কুলে যেতে পারে না। সবসময় যানজটমুক্ত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এ অভিভাবক।
গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি সোম ও মঙ্গলবার গাউছিয়া কাপড়ের বাজারের পাইকারি হাট। হাটের এ দুদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী আসেন বেচাকেনা করতে। সকাল থেকে যানজট থাকার কারণে সোমবার ক্রেতা ছিল কম। ক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এখানকার ক্রেতা-বিক্রেতারা।
বিকালে কথা হয় আকাশ নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চিটাগাং রোড থেকে আমার বাড়িতে যেতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে বসে আছি। যানজট কখন শেষ হবে, কখন বাড়ি ফিরব জানা নেই।’
এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক জিয়াউর রাশেদ বলেন, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্য সংখ্যা আরও বাড়িয়ে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা ও রিকশা অটোস্ট্যান্ড সরিয়ে দিলে যানজট অনেকটা নিরসন হবে বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
প্রবা/রাই /এমআই