× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুই মাসে দুই শতাধিক চুরি, বেড়েছে ডাকাতির ঘটনাও

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:৪৭ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতি রাতেই ঘটছে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোর-ডাকাত চক্র। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ প্রশাসন চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই তাদের কাজ শেষ। এতে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় দুই শতাধিক বসতঘর, দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বেড়েছে ডাকাতির ঘটনাও। গ্রিল কেটে বা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। ডাকাতির সময় ধর্ষণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। 

সম্প্রতি থানার অদূরে পৌর শহরের হাজিপাড়া এলাকায় শাহাবুদ্দিন মৃধার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আড়াই লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। 

কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা আবুল হোসেনের ছেলে আনিচুর রহমানকে কুপিয়ে জখম করে ২ লাখ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। কাছিপাড়া কলেজসংলগ্ন এক ভবনের দুইটি বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুই পরিবারের নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মামামাল নিয়ে গেছে। কালাইয়া ইউনিয়নেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বাসার মেইন গেটের তালা ও সদর দরজা ভেঙে এসব ডাকাতি সংঘটিত হয়। 

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কর্পূরকাঠি গ্রামে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শহিদুল ঢাকার সাভারে চাকরি করেন। বাড়িতে তার স্ত্রী, মা ও দুই সন্তানের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি করে। এ সময় তাদের মারধর করা হয়। লুট করে নেয় এক ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩০ হাজার টাকা। একই রাতে বগী গ্রামের হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বাসার দরজা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। তখন পরিবারের কেউ বাসায় ছিল না। 

১৫ সেপ্টেম্বর ওই ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামে (ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন) মো. ইলিয়াস নামের এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে ডাকাতরা। গৃহবধূ, তার শাশুড়ি ও সন্তানকে বেঁধে ফেলে। লুট করে নেয় তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও ১০ লাখ টাকা। 

গত ৭ আগস্ট ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি গ্রামে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতরা স্ত্রী ও সন্তানদের মুখ বেঁধে অস্ত্র ঠেকিয়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ২৮ আগস্ট রাতে একই ইউনিয়নের পূর্ব কালাইয়া গ্রামে এক স্কুলশিক্ষিকার ঘরে ডাকাতি হয়। মা ও মেয়ের হাত-পা বেঁধে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়।

এ ছাড়াও সম্প্রতি উপজেলার বগা বন্দরে জননী জুয়েলার্সে, পৌর শহরে বকুলতা শহরে সালাম মুন্সির মুদি দোকান, নাজিরপুর ইউনিয়নের সুলতানাবাদ বাজারে এক রাতে ৮টি দোকান, কুচয়া গ্রামের শারিফ তালুকদারের খামার থেকে দুইটি উন্নত জাতের গরু, কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ৫টি গরু, উত্তর মমিনপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আ. খালেক হাওলাদারের ৪টি গরু, শহিদুল হাওলাদারের ৪টি গরু, কনকদিয়া ইউনিয়নের বীরপাশা গ্রামের ইউনুচ খানের ২টি গরু, কালাইয়া ইউনিয়নে একাধিক ব্যক্তির ১৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় প্রতি রাতেই উপজেলায় ঘটছে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। 

ভুক্তভোগীরা জানান, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি যুবকরা এসব চুরি-ডাকাতিতে জড়িত। এলাকার মাদকসেবী, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িরা এসব চুরি-ডাকাতিতে জড়িয়ে গেছে। এ ছাড়াও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কথিত নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। থানা-পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায় এড়িয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। 

জানতে চাইলে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, চুরি-ডাকাতিসহ সব অপরাধ নির্মূলে পুলিশ কাজ করছে। তবে একা পুলিশের পক্ষে এসব সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ বাজারে পাহারাদার নেই, পাহারাদার বসানো প্রয়োজন। এ ছাড়াও সমাজের সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা