ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:৩৪ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:৩৭ পিএম
ফাইল ফটো
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে বেসরকারি ব্যাংক, সুপার শপসহ ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের জামে মসজিদ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া বেপারী বাড়ির বিজন গ্রুপের সঙ্গে ব্রাদার্স শপিং সেন্টারের মালিক জাহিদুল হক জাবেদ, তোফাজ্জল হোসেন জাকির, নাসির উদ্দিন খান সায়মন ও তারিক হান্নানের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এরই জের ধরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নূর মোহাম্মদ বেপারীর বাড়ির বিজন মিয়া বলেন, কিশোরগঞ্জ আদালতের রায় অমান্য করে অবৈধভাবে কতিপয় ব্যক্তি বাপ-দাদার সম্পত্তি দখল করে ব্রাদার্স শপিং সেন্টার নামে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে তাদের বাধা দিয়েছি। এ সময় আমাদের পক্ষের কিছু মানুষ হট্টগোল করেছে।
ব্রাদার্স শপিং সেন্টারের মালিক তোফাজ্জল হোসেন জাকির বলেন, আমরা ২ বছর আগে দলিল মূলে জমিটি ক্রয় করি। ১৯৪২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মালিকানা দলিলও আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু আজ হঠাৎ করে বিজন কিছু লোকজন নিয়ে এসে জামে মসজিদ রোড এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্রাদার্স শপিং সেন্টারে ভাঙচুর করে। তারা আমাদের প্রতিষ্ঠান ভাঙতে এসে অন্য প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেছে। তারা স্বপ্ন সুপার শপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ ছাড়াও ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্লাস ও প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের শাটার ভাঙচুর করেছে।
ভৈরব স্বপ্ন সুপার শপের পরিচালক সুজন মিয়া জানান, ব্রাদার্স শপিং সেন্টারের জায়গা নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে আমাদের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ, দুটি স্মার্টফোন ও বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের মালামাল লুট হয়েছে।
ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব হলে জমিতে গিয়ে দখল নিবে বা ঝগড়া করবে। কিন্তু ভৈরবের প্রাণকেন্দ্র ভৈরব বাজার জামে মসজিদ রোডের ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। জমিসংক্রান্ত দ্বন্দ্বেই একটি পক্ষ ভাঙচুর করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’